হঠাৎ নদী থেকে উঠে এলো যম! চোখের সামনেই ১২ বছরের শিশুকে টেনে নিয়ে গেল কুমির!

উত্তরপ্রদেশের বহরাইচ জেলায় ঘাঘরা নদীর পাড়ে ঘটে গেল এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নদীপাড়ে হাত-পা ধোয়ার সময় আচমকাই একটি বিশাল কুমির আক্রমণ করে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে। চাচার চোখের সামনেই শিশুটিকে টেনে নিয়ে যায় নদীটির গভীর জলে। গ্রামবাসীদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার প্রায় ৫ ঘণ্টা পর নদী থেকে শিশুটির ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, মৃত শিশুটি ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। কয়েক বছর আগেই সে তার বাবা-মা উভয়কেই হারিয়েছিল। বর্তমানে তার পরিবারে এক ভাই ও দুই বোন রয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই সন্ধ্যায়?
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার চাচাকে ধান রোপণের কাজে সাহায্য করতে ক্ষেতে গিয়েছিল ওই নাবালক। বেশ কয়েক ঘণ্টা কাজ করার পর, বাড়ি ফেরার আগে হাত-পা ধোওয়ার জন্য সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তারা ঘাঘরা নদীর পাড়ে দাঁড়ায়। ঠিক তখনই নদী থেকে একটি কুমির ওত পেতে উঠে এসে আচমকা শিশুটির পা কামড়ে ধরে জলের দিকে টানতে শুরু করে।

বিপদ বুঝে তাঁর চাচা চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের ক্ষেতের কৃষক ও গ্রামবাসীরা লাঠিসোটা নিয়ে ছুটে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, কুমিরটির মুখ থেকে শিশুটিকে মুক্ত করার জন্য গ্রামবাসীরা অনবরত ইট-পাথর ছুঁড়তে থাকেন। কিন্তু হিংস্র সরীসৃপটি কিছুতেই তার শিকারকে ছাড়েনি। গ্রামবাসীদের চোখের সামনেই সে শিশুটিকে নিয়ে নদীর গভীর জলে তলিয়ে যায়।

ভিডিও ভাইরাল ও বন দপ্তরের বয়ান
কোনো উপায় না দেখে গ্রামবাসীরা লম্বা বাঁশ ও জাল নিয়ে নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার মরিয়া চেষ্টার পর রাত ১০টা নাগাদ শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। স্থানীয় স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) টি এন মৌর্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। একই সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আক্রমণের একটি হাড়হিম করা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যার সত্যতাও পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ফরেস্ট রেঞ্জার সাকিব আনসারি জানিয়েছেন, নরখাদক কুমিরটি শিশুটির দেহের একাংশ খেয়ে ফেলেছে। উদ্ধারের সময় নিহতের ডান পা এবং কোমরের নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

প্রশাসনের সাহায্য ও ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক
মহকুমা শাসক (SDM) প্রকাশ সিং জানিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসনকে এই বিষয়ে সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। সরকারি ত্রাণ প্রকল্পের অধীনে নিহতের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘাঘরা নদীর তীরবর্তী এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণের দ্বন্দ্বের ভয়ঙ্কর চিত্রটি আবারও সামনে এনে দিল। নদীটিতে কুমিরের অবাধ বিচরণ জানা সত্ত্বেও, জীবিকার তাগিদে এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজের জন্য গ্রামবাসীদের প্রতিনিয়ত এই বিপজ্জনক নদীর ওপরই নির্ভর করতে হয়, যা প্রতিনিয়ত ডেকে আনছে এমন বড়সড় বিপদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *