এক মেলা, একটাই দোকান, বিক্রি ১৬০০ কুইন্টাল জিলিপি! ঝাড়গ্রামের এই মেলা সত্যিই অনন্য

জিলিপি বাঙালির রসনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু জিলিপিকে কেন্দ্র করেই যে আস্ত একটি মেলা বসতে পারে এবং সেখানে ১৬০০ কুইন্টালেরও বেশি জিলিপি বিক্রি হতে পারে, তা শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তব। ঝাড়গ্রামের বিনপুর ব্লকের হাড়দা গ্রামের এই ‘জিলিপি মেলা’ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের এক বিশেষ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

জিলিপি মেলার অবাক করা তথ্য:
সময়কাল: প্রতিবছর লক্ষ্মীপুজোর দিন থেকে শুরু হয় এই মেলা এবং তা চলে ভাইফোঁটা পর্যন্ত।

একক দোকানের আধিপত্য: এই মেলায় জিলিপির দোকান কিন্তু একটিই! মজার বিষয় হলো, প্রতিবছর নিলামের মাধ্যমে এই দোকান দেওয়ার বরাত পেতে হয়।

মূল্য নিয়ন্ত্রণ: জিলিপির দামও বেঁধে দেয় স্থানীয় লক্ষ্মীপুজো কমিটি, যাতে সাধারণ মানুষের নাগালে থাকে এই সুস্বাদু খাবার।

কেন এত জনপ্রিয় এই জিলিপি?
এই মেলায় মানুষ কেন দূর-দূরান্ত থেকে এমনকি প্রতিবেশী রাজ্য থেকে ছুটে আসেন? এর কারণ জিলিপির অনন্য প্রস্তুত প্রণালী। এখানে চালের গুঁড়ি ও বিউলির ডালের গুঁড়ি মিশিয়ে জিলিপি তৈরি করা হয়। এই বিশেষ মিশ্রণের কারণেই জিলিপিগুলো অত্যন্ত মুচমুচে হয় এবং প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত নষ্ট হয় না।

কেন মানুষ ভিড় করেন?
মেলায় অন্যান্য জিনিসের দোকান থাকলেও, মূল আকর্ষণ শুধুই ওই জিলিপি। ঝাড়গ্রাম বা আশেপাশের জেলা তো বটেই, এমনকি ভিন রাজ্য থেকেও মানুষ ট্রেনে-বাসে চেপে হাজির হন জিলিপির সেই বিখ্যাত কামড় দিতে। লক্ষ্মীপুজোর মরসুমে হাড়দা গ্রাম তখন হয়ে ওঠে এক মিলনক্ষেত্র।

মেলা মানেই শুধু কেনাকাটা নয়, মেলা মানে আবেগ—আর এই ‘জিলিপি মেলা’ তার অন্যতম সেরা উদাহরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *