“শুধুই বেতন ফ্যাক্টর নয়”-জেনেনিন ঠিক কেন ISRO ছাড়লেন শতাধিক বিজ্ঞানী?

রকেট উৎক্ষেপণের প্রযুক্তিগত জটিলতা নয়, ইসরোর অন্দরে এখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজ্ঞানেীদের ‘গণ-পদত্যাগ’। গত কয়েক মাসে শতাধিক অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বা স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। দেশের স্বপ্নের ‘গগনযান’ প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলোর মাঝপথেই এমন ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় মহাকাশ দফতরের।
বিজ্ঞানীরা কেন ছাড়ছেন ইসরো? ইসরোর স্বর্ণযুগে যারা ছিলেন, তাঁরা এখন অনেকেই বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপগুলোর কর্ণধার বা পরামর্শদাতা। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace), অগ্নিভুল কসমস (Agnikul Cosmos)-এর মতো সংস্থাগুলো দ্রুত গতির মহাকাশ গবেষণায় নজির গড়ছে। বিজ্ঞানীদের কাছে ইসরো ছাড়ার নেপথ্যে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ:
-
বেতন ও সুযোগ-সুবিধা: সরকারি কাঠামোর তুলনায় বেসরকারি সংস্থাগুলোতে বেতন অনেকটাই বেশি। সেই সঙ্গে মিলছে স্টক অপশন এবং কাজের ক্ষেত্রে আকাশছোঁয়া স্বাধীনতা।
-
দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: ইসরোর প্রশাসনিক জটিলতায় অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়। অন্যদিকে, স্টার্টআপগুলোতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
-
নেতৃত্বের হাতছানি: সরকারি সংস্থায় পদোন্নতির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বেসরকারি ক্ষেত্রে খুব কম সময়েই বড় প্রকল্পের দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রশাসনের কড়াকড়ি ও অভ্যন্তরীণ সমস্যা পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় সরকার গগনযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ ও স্বেচ্ছাবসরের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সূত্রের খবর, ইসরোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেমন—G1 টেস্ট ফ্লাইট বা GSLV-F17 নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় অন্দরে চাপ বাড়ছে। একাংশের দাবি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ক্রমশ সংস্থার শীর্ষ দফতরে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে, যার ফলে কাজের গতি কমছে।
সমাধানের পথে কি ‘নাসা’ মডেল? এই সঙ্কট কাটাতে ইসরোর শীর্ষ আধিকারিকরা নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। নাসার আদলে ‘হাইব্রিড মডেল’ গ্রহণের কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ, স্থায়ী কর্মীর পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে দক্ষ জনবলকে দীর্ঘদিন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
ইসরোর সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ একসময় দেশের মেধাবী বিজ্ঞানীদের একমাত্র স্বপ্ন ছিল ইসরো। কিন্তু এখন বেসরকারি শিল্পের উত্থানে সেই চিত্র বদলেছে। ইসরোকে এখন শুধু মহাকাশের রহস্যভেদ করলেই হবে না, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দেশের সেরা মেধাকে নিজেদের অন্দরে ধরে রাখার লড়াইটাও লড়তে হবে।