কমলা ঠোঁট, কালো লোম! কঙ্গোর গভীর জঙ্গলে নতুন প্রজাতির বানরের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা

পৃথিবী আজও অনেক রহস্য লুকিয়ে রেখেছে নিজের গর্ভে। ঘন জঙ্গলের আড়ালে এমন অনেক প্রাণি রয়েছে যাদের অস্তিত্বের কথা আধুনিক মানবসভ্যতার অজানা। এমনই এক অদ্ভুত এবং নতুন প্রজাতির বানরের সন্ধান পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
নতুন প্রজাতির পরিচয়:
আফ্রিকার কঙ্গো অঞ্চলের দুর্ভেদ্য জঙ্গলে এই নতুন বানরের দেখা মিলেছে। তাদের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা অবাক হয়েছেন। এই বানরদের প্রধান শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
রঙের ভিন্নতা: এদের সারা শরীর ঘন কালো লোমে ঢাকা, কিন্তু সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো তাদের উজ্জ্বল কমলা রঙের ঠোঁট।
চেহারা: এদের আকার বেশ ছোট, তবে লেজটি তুলনামূলকভাবে বেশ লম্বা। লেজের ঠিক গোড়ার কাছে একটি ধূসর ছোপ রয়েছে।
নাম: এই নতুন প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘কোলোবাস কঙ্গোয়েনসিস’ (Colobus congorensis)। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা ভালোবেসে এদের নাম দিয়েছেন ‘লিকওয়েলি’ (Lesula/Lekweli)।
কোথায় পাওয়া গেছে এদের?
কঙ্গোর পূর্ব-মধ্যভাগে লোমামি এবং কঙ্গো নদীর অববাহিকা জুড়ে রয়েছে এক অতি ঘন জঙ্গল। বন্যপ্রাণিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত এই দুর্গম এলাকাতেই তারা বংশবৃদ্ধি করে চলেছে। ঘন জঙ্গল ভেদ করে তারা বাইরে আসে না বলেই হয়তো এত বছর ধরে বিজ্ঞানীদের নজর এড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল।
বিজ্ঞানের পাতায় লিকওয়েলি:
‘পিএলওএস’ (PLOS) জার্নালে এই নতুন প্রজাতিকে নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা প্রকাশিত হওয়ার পরেই বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই আবিস্কারকে এক বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, লিকওয়েলি বা কোলোবাস কঙ্গোয়েনসিস-এর সন্ধান প্রমাণ করে যে, পৃথিবীর এখনো অনেক কোণ আমাদের অজানা রয়ে গেছে, যেখানে প্রকৃতির নিজস্ব ছন্দে নতুন নতুন প্রাণের বিকাশ ঘটে চলেছে।