‘প্রচুর মানুষের কাজ হবে’,-বাংলায় ১৫ হাজার কোটির বিনিয়োগ শ্যাম স্টিলের

বাঁকুড়ার মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্যাম স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে শিল্পায়নের নতুন আশার আলো দেখল রাজ্য। শুক্রবার বাঁকুড়ায় ১৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের এই শিল্পায়নের উদ্যোগকে ‘বাংলার পক্ষে শুভ লক্ষণ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
১৫ হাজার কোটির বিনিয়োগ, হাজার হাজার কর্মসংস্থান
শালতোড়ার একফসলি ও বৃষ্টিনির্ভর জমিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এই শিল্পাঞ্চল। শ্যাম স্টিল কর্তৃপক্ষ তাদের বর্তমান ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটটিকে একটি অত্যাধুনিক ‘ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাঁকুড়া জেলা তো বটেই, পার্শ্ববর্তী পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলাতেও কর্মসংস্থানের জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এখানকার গ্রাম থেকে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। শিল্পায়ন সম্ভব হলে তারা ঘরে ফিরবেন।”
বিস্ফোরক শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়
অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “দশকের পর দশক ধরে বাংলা বঞ্চনার শিকার। আগের সরকার শিল্পকে চূড়ান্ত অবহেলা করেছে। আমাদের কাছে শিল্পপতিরা ভৃত্য নন, বরং পার্টনার। এতদিন যে বিজনেস সামিট হয়েছে, সেগুলো সব বোগাস এবং ঢক্কানিনাদ ছাড়া কিছু নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখলাম, আমিই স্টার্ট-আপ মন্ত্রী। আমার পূর্বসূরিরা শিল্পের জন্য কিছুই করে যাননি।”
শিল্পে গুরুত্ব, জমি দেবে রাজ্য
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি আর নয়। শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি রাজ্য সরকারই কিনে দেবে। তিনি বলেন, “আমাদের মন্ত্র একটাই—‘দেখনা হ্যায়, সোচনা হ্যায়’ নয়, বরং ‘করনা হ্যায়’।”
উল্লেখ্য যে, শ্যাম স্টিলের এই সম্প্রসারণের ফলে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং আনুষঙ্গিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। বাঁকুড়ার মতো পিছিয়ে পড়া জেলায় এই বিশাল বিনিয়োগ রাজ্যের বর্তমান শিল্পনীতির সাফল্য হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।