নিট ইউজি ২০২৬: ৭১০ থেকে ৬৯৬! প্রতিকূলতা জয় করে মধ্যপ্রদেশের ‘স্টার’ আর্যমানের সাফল্যের মন্ত্র

নিট ইউজি (NEET UG) ২০২৬-এর ফলপ্রকাশের পর আলোচনার কেন্দ্রে এখন মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের আর্যমন সোলাঙ্কি। ৭২০-এর মধ্যে ৬৯৬ নম্বর পেয়ে তিনি রাজ্যের শীর্ষস্থান দখল করেছেন এবং সর্বভারতীয় র্যাঙ্কিংয়ে (AIR) ৪৬তম স্থান অর্জন করেছেন। ডাক্তার বাবা-মায়ের যোগ্য উত্তরসূরি আর্যমনের লক্ষ্য এখন দিল্লির মর্যাদাপূর্ণ এইমস (AIIMS) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা।
সাফল্যের ছোট ছোট লক্ষ্য:
একাদশ শ্রেণি থেকে প্রস্তুতি শুরু করলেও নবম-দশম শ্রেণি থেকেই আর্যমনের পড়াশোনার ভিত তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তবে তার সাফল্যের মূলমন্ত্র ছিল ‘মাইক্রো-গোল’ বা ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করা। আর্যমনের কথায়, “পুরো সিলেবাস বা বিশাল লক্ষ্য নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে, প্রতিদিনের পড়াশোনা এবং প্রতিটি অধ্যায়কে ছোট ছোট লক্ষ্য হিসেবে ভাগ করে নিয়েছিলাম। এই ধারাবাহিকতাই বড় সাফল্য এনে দিয়েছে।”
ধারাবাহিকতাই আসল:
দীর্ঘ সময় ধরে গাদাগাদা বই পড়ার চেয়ে আন্তরিকতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন আর্যমান। তিনি জানান, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা নিষ্ঠার সাথে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর মতে, “একদিন ১০ ঘণ্টা পড়ে পরের দিন না পড়ার চেয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়া অনেক বেশি কার্যকর। পড়াশোনাকে কখনোই চাপ হিসেবে না নিয়ে বরং আনন্দ ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করেছি।”
পরিবারের লড়াই ও পুনঃপরীক্ষার চ্যালেঞ্জ:
আর্যমনের সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর বাবা-মা, ডঃ ফনিন্দ্র সোলাঙ্কি ও ডঃ অনুপমা সোলাঙ্কির নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন। প্রথম দফার নিট পরীক্ষায় ৭১০ নম্বর পাওয়ার পরেও প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্তে আর্যমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েনি। তার বাবা ডঃ ফনিন্দ্র সোলাঙ্কি জানান, “আমরা এটাকে ক্ষতি হিসেবে না দেখে নতুন সুযোগ হিসেবে দেখেছি। আর্যমনকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছি যাতে সে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করতে পারে। কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলাই একজন সফল চিকিৎসকের বড় গুণ।”
ভবিষ্যৎ ভাবনা:
ইউরোলজিতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন দেখা আর্যমনকে পড়াশোনার জন্য কখনও আলাদা করে চাপ দিতে হয়নি বলে জানিয়েছেন তাঁর মা ডঃ অনুপমা। তিনি জানান, ছেলের শৃঙ্খলাই তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। আর্যমনের এই যাত্রা শুধু একটি পরীক্ষার সাফল্য নয়, বরং প্রতিকূলতার মুখে ধৈর্য ও সঠিক পরিকল্পনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।