মহারাষ্ট্রে নতুন সমীকরণ? শরদ পাওয়ারের এনডিএ-তে যোগদানের জল্পনায় উত্তাল রাজনীতি!

সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক আবহে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে এনসিপি (শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী)-র হেভিওয়েট নেতাদের একাধিক বৈঠক ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা। বিরোধী শিবিরে থাকা শরদ পাওয়ারের দল কি তবে এবার এনডিএ জোটে নাম লেখাতে চলেছে?

গোপন বৈঠকের ঘনঘটা:
গত কয়েক দিনে মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অলিন্দে একাধিক হাই-প্রোফাইল বৈঠক হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে এনসিপি (এসপি) নেতা জয়ন্ত পাটিল এবং জিতেন্দ্র আওহাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এর দুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের সরকারি বাসভবন ‘বর্ষা’-য় যান জয়ন্ত পাটিল, প্রফুল প্যাটেল এবং সুনীল টাটকরে। এই ঘনঘন সাক্ষাৎই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

জল্পনায় জল ঢাললেন সুনীল টাটকরে:
যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই বৈঠকগুলোকে এনডিএ-তে যোগদানের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছেন, তবে এনসিপি (অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী)-র রাজ্য সভাপতি সুনীল টাটকরে এই তত্ত্ব পুরোপুরি নাকচ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠকগুলো ছিল নিজ নিজ লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কাজ এবং অর্থবিভাগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। এর সাথে এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর একীভূতকরণের কোনো যোগসূত্র নেই।”

একীভূতকরণ কি সম্ভব?
অতীতে শরদ পাওয়ার এবং অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর একীভূতকরণ নিয়ে আলোচনা অনেকটা এগিয়েছিল, কিন্তু তা এখন পুরোপুরি থমকে গেছে। টাটকরে বলেন, “শরদ পাওয়ার গোষ্ঠীর নেতারা নিজেই জানিয়েছেন যে একীভূত হওয়ার সেই অধ্যায় শেষ। আমরা নতুন কোনো প্রস্তাবও পাইনি।” সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে শরদ পাওয়ার শিবিরের কথিত সমর্থন বিজেপি-র সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতার লক্ষণ—এই দাবিও তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

রাজনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা:
অন্যদিকে, শরদ পাওয়ার নিজেও বারংবার জানিয়েছেন যে, এনডিএ-তে যোগদানের কোনো প্রস্তাব তিনি পাননি। তবুও, সংসদের অধিবেশন শুরুর ঠিক আগে এনসিপি (এসপি) নেতৃত্বের এই তৎপরতাকে নিছক প্রশাসনিক কাজ হিসেবে মানতে নারাজ রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। তাদের মতে, মহারাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পর্দার আড়ালে বড় কোনো সমীকরণের প্রস্তুতি চলছে কি না, তা সময়ই বলবে।

সন্দিগ্ধ এই পরিস্থিতিতে এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক দিনে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক চালচিত্র কোন দিকে মোড় নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *