শয়তানের চেয়েও নিকৃষ্ট! ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-খুনে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ৫০ বছরের জেল হাইকোর্টের

২০২১ সালে ৭ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন রায় দিল পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও, হাইকোর্ট সেই রায় পরিবর্তন করে অপরাধীকে ৫০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি অনুপ চিতকরা এবং বিচারপতি রমেশ চন্দ্র দিমরির ডিভিশন বেঞ্চ ৫৪ পৃষ্ঠার রায়ে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

কী বলেছিল আদালত?
আদালত এই অপরাধকে ‘শয়তানের চেয়েও নিকৃষ্ট’ বলে অভিহিত করেছে। রায়ে বিচারকগণ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, মৃত শিশুটির সপ্তম জন্মদিন আসতে মাত্র ১৭ দিন বাকি ছিল। বাবা-মা তাকে রক্ষা করার জন্য গলায় ও কোমরে কালো সুতো বেঁধে দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই সুরক্ষা বলয়ও শেষ পর্যন্ত অপরাধীর হাত থেকে তাকে বাঁচাতে পারেনি। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, অপরাধী যাতে ভবিষ্যতে কোনো মেয়ের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতেই এই ৫০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। তাকে কোনো অবস্থাতেই ৫০ বছর কারাভোগের আগে মুক্তি দেওয়া যাবে না।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
২০২১ সালের ২৪ মে বিকেলে সাত বছরের ওই শিশুটি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করার পরদিন সকালে তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের প্রমাণ মেলে। ২০২৩ সালের ২৮ জুলাই পালওয়ালের এক বিশেষ আদালত অভিযুক্ত আনন্দ সিংকে মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়।

তদন্তে কেন এল প্রশ্ন?
হাইকোর্ট তাদের রায়ে তদন্তকারী পুলিশের কঠোর সমালোচনা করেছে। আদালত জানিয়েছে, পুলিশ দাবি করেছিল অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার আগেই পুলিশ মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিল। যদিও তৎকালীন কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের চাপের কথা আদালত স্বীকার করেছে, তবুও তদন্তের এই বড় ত্রুটিগুলোকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আদালত।

৭৩ লক্ষ টাকার জরিমানা:
হাইকোর্ট অভিযুক্তকে হত্যা ও পকসো আইনের বিভিন্ন ধারায় দণ্ডিত করেছে। মোট জরিমানার পরিমাণ ৭৩ লক্ষ টাকা (হত্যা মামলায় ৫০ লক্ষ এবং পকসো আইনের অধীনে ২৩ লক্ষ টাকা)। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ যেন দ্রুত ভুক্তভোগীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হয়।

এই রায় একদিকে যেমন অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর গাফিলতি ও সাক্ষ্যপ্রমাণের গুরুত্বকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

পরামর্শ: এই ধরনের সংবেদনশীল আইনি সংবাদ পরিবেশনের সময় ভুক্তভোগীর পরিবারের গোপনীয়তা ও আইনি মারপ্যাঁচগুলো সতর্কতার সাথে উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *