স্কুলে যাওয়ার পথ মানেই কি মৃত্যুফাঁদ? কাঁধে ছেলেকে নিয়ে নদীর উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই বাবার

শিক্ষার আলো পৌঁছাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার যেখানে তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই বিহারের রামনগর ব্লকের ‘দোন’ অঞ্চল থেকে উঠে এল এক হাড়হিম করা ছবি। সন্তানের শিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এক বাবা কী অসাধ্য সাধন করতে পারেন, তার একটি বিভীষিকাময় ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঁধে করে সন্তানকে নিয়ে উফনতি নদী পার হচ্ছেন এক অসহায় পিতা।

কাঁধে সন্তান, নিচে মৃত্যুর হাতছানি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢলে নদী এখন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। জলস্রোত এতটাই তীব্র যে যেকোনো সময় ভেসে যেতে পারে সব কিছু। তবুও থামেননি ওই পিতা। পিঠে স্কুলব্যাগ, আর কাঁধে নিজের জীবনের চেয়েও প্রিয় সন্তানকে নিয়ে তিনি এগিয়ে চলছেন জলরাশির মধ্য দিয়ে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় কোনোমতে তারা প্রাণ হাতে নিয়ে পৌঁছান নিরাপদ তীরে। এই দৃশ্য দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা। উঠছে প্রশাসনিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার ঝড়।

একদিকে বর্ষা, অন্যদিকে বিচ্ছিন্ন ‘দোন’ নেপালের তরাই অঞ্চলে প্রবল বর্ষণের জেরে গণ্ডক ও মসানসহ মোট ২২টি ছোট-বড় পাহাড়ি নদী এখন দোন অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা নামলেই এই এলাকাটি রামপুর ও হরণাটাঁড় ব্লক থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাস্তা, সেতু বা স্বাস্থ্য পরিষেবার নামগন্ধ নেই সেখানে। আধুনিক সভ্যতায় এমন একটি অঞ্চল আজও যে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে, তা এই ভিডিও না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

সবটুকু দিয়েও কেন এই লড়াই? গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তারা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও একটি সেতুর আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাননি। বাবা-মায়েরা শুধু প্রার্থনা করেন, সন্তান যেন কোনোভাবে বেঁচে ফেরে। এই ভাইরাল ভিডিওটি কেবল একটি খবরের ফুটেজ নয়, এটি একজন পিতার চরম অসহায়ত্ব এবং সরকারের চরম ব্যর্থতার এক জ্যান্ত দলিল।

একজন সচেতন অভিভাবক কি পারবেন প্রতিবার এমন ঝুঁকি নিয়ে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন দোন অঞ্চলের প্রতিটি বাবা-মা। এখন দেখার বিষয়, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসনিক স্তরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, নাকি এভাবেই চলতে থাকবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *