কেন আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হার? কোচ কেই দুষছেন ইংল্যান্ডের সমর্থকরা

সেমিফাইনালের মঞ্চ, সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা, আর জয়ের হাতছানি—এমন সুযোগ হাতছাড়া করে বিদায় নিল ইংল্যান্ড। ম্যাচে ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে আর্জেন্টিনার কাছে হার মানতে হলো ‘থ্রি লায়ন্স’দের। এই হারের পরেই ব্রিটিশ ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস তুচেলের রক্ষণাত্মক মনোভাবকেই হারের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
কোচের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত? ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক ওয়েন রুনি বিবিসিকে বলেছেন, “প্রথম গোল পাওয়ার পর ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় গোলের জন্য ঝাঁপানো উচিত ছিল। কোচ তুচেলের অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ হওয়ার সিদ্ধান্তই আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে।” রুনির মতে, পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলার যে কৌশল তুচেল গ্রহণ করেছিলেন, তা আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে একেবারেই বোকামি ছিল।
প্রাক্তনদের তোপের মুখে তুচেল
-
মাইকা রিচার্ডস: তিনি তুচেলের খেলোয়াড় পরিবর্তনের সমালোচনা করে বলেছেন, কোচ যেভাবে দলকে পিছনের সারিতে ঠেলে দিয়েছিলেন, তাতে মেসিদের খেলতে কোনো অসুবিধাই হয়নি।
-
অ্যালান শিয়ারার: তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে। পিছিয়ে পড়েও তারা যে শান্ত থেকেছে, সেটাই ছিল তাদের সাফল্যের চাবিকাঠি।
-
মাইকেল ওয়েন: সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ১-০ এগিয়ে থাকার সময় তিনজন ডিফেন্ডার বাড়তি নামানোর অর্থ কী? ওয়েনের মতে, এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের হারই প্রাপ্য ছিল।
-
গ্যারি নেভিল: তিনি মনে করেন, বড় টুর্নামেন্টের চাপে ইংল্যান্ডের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পুরনো রোগ আবারও সামনে চলে এসেছে।
কঠিন ম্যাচে ব্যর্থ ইংল্যান্ড টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় ইংল্যান্ড যে মানসিক বা কৌশলগত দিক থেকে আর্জেন্টিনা থেকে পিছিয়ে ছিল, তা এখন স্পষ্ট। এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজের জোড়া গোলের কাছে শেষমেশ আত্মসমর্পণ করতে হয় ইংল্যান্ডকে। কোচ তুচেলের ট্যাকটিকস এখন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকদের কাছে বড় আলোচনার বিষয়।
১৯৬৬ সালের পর ফের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে কাতারে (বা বিশ্বকাপের মঞ্চে) পা রাখা ইংল্যান্ডের কাছে এই হার নিঃসন্দেহে এক গভীর ক্ষত। তুচেলের এই রক্ষণাত্মক কৌশল কি আসলেই দলের ক্ষতি করল? এই প্রশ্নই এখন ইংল্যান্ডের ফুটবল আঙিনায় ঘুরপাক খাচ্ছে।