‘ইডি-র বিশেষ আমন্ত্রণে গিয়েছেন মদন!’ দলত্যাগ নিয়ে মহুয়ার খোঁচায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের চোরাস্রোত এখন প্রকাশ্য। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের দলত্যাগ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের ঘটনা ঘিরে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে সুর চড়িয়ে মদন মিত্রকে বেনজির আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
‘ইডির সমনে ঘরবদল’
মদন মিত্রের শিবির পরিবর্তনের নেপথ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির যোগ দেখছেন মহুয়া মৈত্র। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “মদন মিত্রের এই সিদ্ধান্তে অবাক হওয়ার কিছু নেই। গতকালই তাঁর স্ত্রী এবং পুত্রবধূদের ইডি তলব করেছে। বলা যায়, ইডির বিশেষ আমন্ত্রণেই তিনি ঋতব্রতদের শিবিরে গিয়েছেন।” মহুয়ার এই মন্তব্যে কার্যত স্পষ্ট যে, তৃণমূল নেতৃত্বের মতে এটি নিছক রাজনৈতিক পদত্যাগ নয়, বরং কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ থেকে বাঁচতেই মদনবাবুর এই কৌশল।
অভিষেককে নিয়ে বিস্ফোরক মদন
এদিকে দলত্যাগের পেছনে ইডির যোগ থাকার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন মদন মিত্র। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে তাঁর পরিবার সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে, কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। উলটে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকেই আঙুল তুলেছেন তিনি।
মদন মিত্র দাবি করেন, “আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শ দিয়েছিলাম ছয় মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে, যাতে দলকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু তা মানা হয়নি। দল ডুবছে, তবুও সবকিছু অভিষেককে বাঁচানোর জন্যই করা হয়েছে।” সাংগঠনিক সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক সম্পর্ক কার্যত চুকে গেছে।
‘বিজেপি চেয়েছিল আমি হার্ট অ্যাটাক করি’
তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙন নিয়ে মুখ খুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ফেসবুক লাইভে তিনি নাম না করে বিদ্রোহী নেতাদের ‘সেটিং কোম্পানি’র অংশ বলে নিশানা করেন। নেত্রীর কথায়, “বিজেপি চেয়েছিল আমি হার্ট অ্যাটাক করে মারা যাই। কিন্তু আমি বেঁচে থাকব, তোমাদের রাজনৈতিক পরিণতি দেখার জন্য।”
চলছে আইনি লড়াই
তৃণমূলের নাম এবং প্রতীক নিজের দখলে রাখতে এখন নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে ঋতব্রত শিবিরের বিদ্রোহী গোষ্ঠী। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরও পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। একদিকে অভিষেককে ঘিরে তীব্র বিতর্ক, অন্যদিকে পুরোনো সৈনিকদের দলত্যাগ—সব মিলিয়ে এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল। এই রাজনৈতিক লড়াই শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, এখন সেটাই দেখার।