নামে ‘বুড়ো’, বয়স কুড়ি! ধুমধাম করে জন্মদিন পালিত হলো এক ছাগলছানার

নাম ‘বুড়ো’ হলেও সে আঠারো পেরিয়ে কুড়িতে পা দিয়েছে। না, কোনো মানুষ নয়—আরামবাগ দৌলতপুর প্রতিবন্ধী স্কুলের এক অদ্ভুতুড়ে অথচ ভালোবাসায় মোড়া জন্মদিনের সাক্ষী থাকল এলাকা। বুধবার স্কুলের বারান্দায় রঙিন বেলুন আর ফুলের মালায় সাজানো হয়েছিল বিশেষ এক অতিথির জন্য, আর সেই অতিথি স্বয়ং এক ছাগলছানা!
মমতার স্নেহের ‘বুড়ো’
দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণিমা চালক এই স্কুলের মিড-ডে মিলের সহায়িকা। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি পশুপ্রেমে এক অনন্য নজির গড়েছেন। পূর্ণিমা দেবী জানান, দীর্ঘ ২০ বছর আগে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ছাগলছানাটির মা মারা যায়। মৃত মায়ের দুধ খাওয়ার জন্য ছানাটির সেই আপ্রাণ চেষ্টা দেখে পূর্ণিমা দেবী তাকে নিজের সন্তানের মতোই বুকে আগলে নেন। নাম দেন ‘বুড়ো’। নিজের ছেলের মতোই তাকে বড় করে তুলেছেন তিনি।
স্কুলে ঘটা করে জন্মদিন
এদিন স্কুলের প্রিন্সিপাল আশিস রায়ের অনুমতি নিয়ে প্রতিবন্ধী স্কুলের বারান্দায় পালিত হলো ‘বুড়ো’র ২০তম জন্মদিন। নতুন সাদা জামা পরিয়ে, গলায় ফুলের মালা ও কপালে টিপ পরিয়ে যখন তাকে আনা হয়, তখন উপস্থিত ৬০ জন মহিলা অভিভাবক গলা মিলিয়ে গেয়ে ওঠেন ‘হ্যাপি বার্থডে’ গান। পূর্ণিমা দেবী পরম আদরে তাকে কেক খাওয়ান। অতিথিরাও খালি হাতে আসেননি; কেউ এনেছেন বিস্কুট, কেউ লজেন্স, আবার কেউ বা কোল্ড ড্রিঙ্কস।
পশুপ্রেমের নজির
শুধু কেক কাটাই নয়, ছিল এলাহি ভোজের আয়োজনও। সাদা ভাত, ডাল, মাছের মুড়ো, মাংস, দই, চাটনি আর পায়েস—মেনু দেখে অবাক স্থানীয়রা। তবে এই আয়োজনকে সমর্থন জানিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে অভিভাবকরা। স্কুলের প্রিন্সিপাল আশিস রায় বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। পূর্ণিমা দিদি সেই বার্তাকেই যেন প্রতিদিন পালন করছেন।”
উপস্থিত অভিভাবক প্রতিমা প্রামাণিক ও শীলা মুখার্জী জানান, এমন ঘটনা আগে কখনও দেখেননি, তবে পূর্ণিমা দেবীর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা তাদের মুগ্ধ করেছে। চারিদিকের অস্থির রাজনৈতিক আবহ আর ভাঙন যখন খবরের শিরোনামে, তখন আরামবাগের এই ছোট্ট স্কুলে এক অমানবিকতার বিপরীত চিত্র যেন এক টুকরো মানবিকতার হাওয়া নিয়ে এল।