‘চিকিৎসার নামে শুধুই প্রচার!’ আড়াই বছরের শিশুর হাত কাটা পড়তেই বিস্ফোরক পরিবার

আড়াই বছরের ফুটফুটে এক শিশুকন্যা। তার সুস্থ হওয়ার আশায় এক বুক স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন পরিবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরেও চিকিৎসার বদলে মিলল না কিছুই, উল্টে চরম অবহেলায় হারাতে হলো হাতের একটি অংশ। বিষ্ণুপুরের বোরহানপুর গ্রামের কৃতি মান্নার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
কী ঘটেছিল সেদিন?
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে পৈলানের এক সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসার আশায় গিয়েছিলেন কৃতি মান্নার বাবা চিত্তরঞ্জন মান্না ও মা রুমা মান্না। কৃতির ডান হাতে জটিল সমস্যা থাকায় আগে থেকেই দিল্লির এইমসে (AIIMS) তার চিকিৎসা চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, সেই শিবিরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। সেসময় কৃতির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তার ভবিষ্যতের পড়াশোনারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এমনকি কৃতির ছবি ‘নিঃশব্দ বিপ্লব’ বইতেও ছাপা হয় বলে দাবি পরিবারের।
চিকিৎসার বদলে প্রচার?
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি পেলেও কার্যত ছয় মাস ধরে কৃতির চিকিৎসার কোনো অগ্রগতিই হয়নি। উলটে ওই সময়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরিবার যখন মরিয়া হয়ে তাকে বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে নিয়ে যান, তখন চিকিৎসকরা জানান, অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। সংক্রমণ এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে, আড়াই বছরের শিশুটির ডান হাত কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না।
দোষীদের শাস্তির দাবি
শোকার্ত মা রুমা মান্না কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার মেয়ের ডান হাত সারা জীবনের জন্য হারিয়ে গেল। এর জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেবাশ্রয় শিবিরই দায়ী। আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি, আমরা শুধু বিচার চাই।” বাবার অভিযোগ, তাঁদের অসহায়তাকে রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র।
বিতর্কের কেন্দ্রে সেবাশ্রয়
প্রসঙ্গত, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পটিকে ঘিরে আগেও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের দুর্নীতি ইস্যুতে তদন্ত চালাচ্ছে। একের পর এক অভিযোগের মুখে পড়ে সেবাশ্রয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনাটি যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা শাসকদলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আপাতত আইন ও প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে কৃতি মান্নার পরিবার ও এলাকাবাসী।