সাক্ষীদের ভয় দেখানো হয়নি? সুপ্রিম কোর্টে বড় দাবি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের, চাপে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পুত্র

লখিমপুর খেরি সহিংসতার মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশীষ মিশ্র। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় সাক্ষীদের ভয় দেখানোর অভিযোগে আশীষ মিশ্র এবং তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ কার্যত খারিজ করে দিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা স্ট্যাটাস রিপোর্টে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি যা থেকে প্রমাণিত হয় যে, সাক্ষীদের প্রভাবিত করার পেছনে আশীষ বা তাঁর বাবার কোনো হাত ছিল।

তদন্তে কী উঠে এল?
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে মামলার শুনানির সময় উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সাক্ষীদের ভয় দেখানোর অভিযোগে দায়ের করা এফআইআর-এর তদন্ত ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশি রিপোর্ট অনুযায়ী, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সাক্ষীকে ভয় দেখানোর পেছনে আশীষ মিশ্রের কোনো ভূমিকা পাওয়া যায়নি। তবে, আমনদীপ সিং নামক একজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং নিম্ন আদালত তা আমলে নিয়েছে।

কী বলেছিল অভিযোগ?
উল্লেখ্য, গত বছর বলজিন্দর সিং নামের এক সাক্ষী অভিযোগ করেছিলেন যে, লখিমপুর কাণ্ডের জবানবন্দি প্রত্যাহার করার জন্য তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দিকে পুলিশ এ বিষয়ে নিষ্ক্রিয় থাকায় সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে পড়েছিল উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীকালে সহকারী পুলিশ সুপার পাঞ্জাবের মুক্তসরে গিয়ে বলজিন্দর সিংয়ের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর ভিত্তিতেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৯৫-এ, ৫০৬ এবং ১২০-বি ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ রাজ্যের দাখিল করা এই স্ট্যাটাস রিপোর্ট নথিভুক্ত করেছে। তবে মামলার মোড় ঘোরার ইঙ্গিত দিয়ে আদালত অভিযোগকারী পক্ষকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি অতিরিক্ত হলফনামা জমা দেওয়ার সময় দিয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী মাসে। বর্তমানে আশীষ মিশ্র জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং আদালতের কঠোর নজরদারিতেই বিচার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে প্রতিবাদী কৃষকদের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৪ জন কৃষকসহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়। সেই সময় থেকেই এই মামলাটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তবে আজকের পুলিশি রিপোর্ট নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি জল্পনা তৈরি করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *