পুরী থেকে আহমেদাবাদ! শতবর্ষ পেরিয়ে আজও ভারতের কোন কোন রথযাত্রা সবচেয়ে জনপ্রিয়?

আষাঢ় মাস মানেই দেশজুড়ে রথের চাকার আওয়াজ আর রশিতে টান দেওয়ার অগণিত ভক্তের ভিড়। রথযাত্রা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি ভারতের সুদীর্ঘ ইতিহাস ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শতাব্দীপ্রাচীন এমন কিছু রথযাত্রা রয়েছে, যা আজও মানুষের মনে সমান উৎসাহ ও উদ্দীপনা জাগায়।
পুরীর জগন্নাথদেবের রথযাত্রা
ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন রথযাত্রা হিসেবে পরিচিত পুরীর এই উৎসব। দ্বাদশ শতক থেকে শুরু হওয়া এই রথযাত্রা আজও ভারতের রথযাত্রার মূল ভিত্তি। লক্ষাধিক মানুষের ভিড় আর বিদেশ থেকে আসা পুণ্যার্থীদের উপস্থিতিতে পুরীর রথযাত্রা আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও জৌলুসপূর্ণ।
মাহেশের রথযাত্রা: দ্বিতীয় প্রাচীন উৎসব
বাংলার গর্ব হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা। প্রায় ৬২৫ বছরের পুরনো এই রথযাত্রা ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম উৎসব হিসেবে স্বীকৃত। সম-উদ্দীপনা ও ভক্তদের ভিড়ে মাহেশ আজও এক পবিত্র তীর্থক্ষেত্র।
বারাণসীর রথযাত্রা (১৮০২ সাল)
প্রাচীন শহর বারাণসীতে ১৮০২ সালে শুরু হওয়া রথযাত্রাটি এক অন্য মাত্রা পায়। জ্যেষ্ঠা পূর্ণিমার স্নানযাত্রার পর জগন্নাথদেবের সুস্থ হওয়ার পর তাঁকে শহর পরিক্রমা করানোর এই প্রথা বারাণসীকে প্রতিবছর এক অনন্য রূপ দেয়।
আহমেদাবাদ ও অন্যান্য
গুজরাটের আহমেদাবাদের রথযাত্রা ১৪৯ বছরের পুরনো। শোনা যায়, পুরীর পরই এই রথযাত্রায় সবচেয়ে বেশি মানুষের সমাগম হয়। লক্ষ লক্ষ ভক্ত গুজরাটের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে হাজির হন। এছাড়া কলকাতার ইস্কন রথযাত্রা বর্তমানে শহর তথা দেশের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল ইস্কন নয়, কলকাতার বহু শতাব্দীপ্রাচীন পারিবারিক রথ আজও পুরনো রীতি মেনে রাজপথে বার হয়।
এক নজরে কিছু ঐতিহাসিক তথ্য:
পুরী: দ্বাদশ শতাব্দী থেকে।
মাহেশ: ৬২৫ বছরের ঐতিহ্য।
আহমেদাবাদ: ১৪৯ বছরের প্রাচীন উৎসব।
বারাণসী: ১৮০২ সাল থেকে সূচনা।
রথযাত্রার এই বৈচিত্র্য প্রমাণ করে যে, ভারত এক অনন্য সংস্কৃতির দেশ, যেখানে শতাব্দীপ্রাচীন পরম্পরা আজও ডিজিটাল যুগের আধুনিকতার মধ্যেও সমানভাবে বেঁচে আছে।