মদন মিত্রের বিদায়ে ভাঙনের সুর তৃণমূলে! ‘পিসি-ভাইপো ছাড়া কেউ থাকবে না’, হুঁশিয়ারি সুকান্তর

কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্যের পরই উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার।
কী বললেন সুকান্ত মজুমদার?
কল্যাণীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ভাঙন এখন আর গোপন কিছু নয়। মদন মিত্রের ইস্তফার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “ভোটের আগে আমি বহুবার বলেছিলাম, তৃণমূল কংগ্রেস হারার পর দলে পিসি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ও ভাইপো (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) ছাড়া আর কেউ থাকবে না। সেই ভবিষ্যদ্বাণীই এখন সত্যি হতে শুরু করেছে। আগামী দিনে পিসি-ভাইপো থাকবেন, কিন্তু দল আর থাকবে না।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সুকান্তর নিশান:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘প্যারাসুট জাম্পিং’ রাজনীতিকে দায়ী করে সুকান্ত বলেন, তৃণমূলের পুরনো নেতারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উত্থান মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, “রাজনীতিতে এসে অভিষেক সমস্ত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গিয়েছেন। সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ এখন তাঁর হাতে। দলের অভিজ্ঞ নেতারা অভিষেকের অহংকার ও হিটলারি কায়দার কারণে দমবন্ধ অবস্থায় আছেন।” তিনি আরও দাবি করেন, মদন মিত্রের মতো প্রভাবশালী নেতার এলাকাতেও অভিষেকের কারণে প্রভাব কমতে শুরু করেছিল, যা বিধায়ক মেনে নিতে পারেননি।
মদন মিত্রের তোপ ও বিজেপির প্রতিক্রিয়া:
উল্লেখ্য যে, পদ ছাড়ার পরই মদন মিত্র অভিযোগ করেছিলেন যে, “ইডির চেয়েও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেশি ভয়ঙ্কর।” এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, তৃণমূলের পুরনো নেতাদের প্রতি সুবিচার করা হচ্ছে না এবং দলকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধেছেন এবং দলবদলু নেতাদের তৃণমূলের প্রতি চূড়ান্ত অনাস্থার বিষয়টি সামনে এনেছেন।
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ:
মদন মিত্রের মতো একজন ‘কালারফুল’ এবং পুরনো নেতার এই বিদ্রোহ ও বিজেপি নেতাদের আক্রমণ—দুইয়ে মিলে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগগুলোর সরাসরি কোনো জবাব না দিলেও, একের পর এক নেতার দল ছাড়ার প্রবণতায় বিরোধীরা যে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।