আমির খানের ছবির সঙ্গে নাম জড়িয়েও কেন সম্মান পেলেন না সোনম? প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়েটস’-এর ‘ফুনসুক ওয়াংডু’ চরিত্রটি যে বাস্তবের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত, তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে চর্চা চলে আসছে। কিন্তু পর্দার এই সাফল্যের চাকচিক্যের আড়ালে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা ও অবহেলার ইতিহাস লুকিয়ে আছে, তা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন স্বয়ং সোনম ওয়াংচুক।
অনুমতি ছাড়া ‘অনুপ্রেরণা’
সোনম ওয়াংচুক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সিনেমা নির্মাণের আগে নির্মাতারা তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শের প্রয়োজন মনে করেননি। এমনকী তাঁর অনুমতি ছাড়াই সিনেমাটির বেশ কিছু অংশ শ্যুটিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সোনম জানান, তাঁর স্কুলে শ্যুটিংয়ের অনুমতি চেয়েছিল আমিরের টিম। কিন্তু পরিবেশ ও শিক্ষাঙ্গনের সুরক্ষার খাতিরে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীকালে অনুমতি ছাড়াই অন্য স্কুলে দৃশ্যগুলি শ্যুট করা হয়।
আমির খানের সঙ্গে তিক্ত অভিজ্ঞতা
এক সাক্ষাৎকারে সোনম ওয়াংচুক জানান, ২০০৮ সালে আমির খানের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। তিনি তখন অভিনেতা আমির খানকে যুদ্ধের গল্পের বদলে সিয়াচেন সীমান্ত ও সেখানে শান্তি-শিক্ষার প্রেক্ষাপটে একটি সিনেমা তৈরির পরামর্শ দিয়েছিলেন। অথচ বাস্তবে সেই পরামর্শের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর নির্মাতাদের একটি চিঠি দিয়ে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলেন সোনম, কিন্তু সেই চিঠির কোনো উত্তর তিনি পাননি।
কেন চুপ ছিলেন সোনম?
সিনেমার সাফল্যে জল ঢালতে চাননি বলেই সেই সময় বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ করেননি তিনি। তাঁর মনে হয়েছিল, সিনেমার সাফল্যের জোয়ারে তখন সবাই ভাসছে। এমন পরিস্থিতিতে মুখ খুললে লোকে মনে করতে পারত, তিনি হয়তো অর্থের জন্য বা প্রচারের জন্য এমনটা করছেন। নিজের আত্মমর্যাদার খাতিরে তিনি তাই নীরব থেকে এগিয়ে যাওয়াই শ্রেয় বলে মনে করেছিলেন।
বাস্তবের এই ফুনসুক ওয়াংডু আজও নিজের লক্ষে অটল। তিনি মনে করেন, সিনেমার রূপকথা নয়, বরং শিক্ষার প্রকৃত প্রসারে মানুষের মানসিকতার বদল ঘটানোই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।