সরকারি অফিসাররা ফাইল ফেলে রাখলেই জরিমানা, বড় ঘোষণা দিল্লির সরকারের

সরকারি দপ্তরে ফাইল আটকে রাখার দিন শেষ। দীর্ঘদিনের লাল ফিতের ফাঁস কাটিয়ে সাধারণ মানুষকে দ্রুত পরিষেবা দিতে এবার কড়া আইন আনতে চলেছে দিল্লি সরকার। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে ‘দিল্লি রাইট অফ সিটিজ়েন টু টাইম-বাউন্ড অ্যান্ড ইজ় অফ ডেলিভারি অফ সার্ভিস বিল, ২০২৬’। এই বিল পাশের মাধ্যমেই প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার।

কী থাকছে নতুন নিয়মে? নতুন বিল অনুযায়ী, সরকারি কর্মী বা আধিকারিকদের প্রতিটি ফাইলের কাজে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। সেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে অভিযুক্ত অফিসারকে গুনতে হবে জরিমানা।

  • জরিমানার হার: ফাইল আটকে রাখলে বা অযৌক্তিকভাবে আবেদন বাতিল করলে প্রতি দিনের জন্য ২৫০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এই জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অফিসারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে।

ডিজিটাল ব্যবস্থায় নজরদারি: পুরো প্রক্রিয়াটি হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল। নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে সরকারি পরিষেবার জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদনের বিনিময়ে একটি ‘ইউনিক নম্বর’ পাবেন। এই নম্বর দিয়ে রিয়েল-টাইমে জানা যাবে আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বারবার সরকারি দপ্তরে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হবে না।

অভিযোগের অটোমেটিক সমাধান: নতুন ব্যবস্থায় আলাদা করে কোথাও অভিযোগ জানানোর প্রয়োজন পড়বে না। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেই আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ‘গ্রিভ্যান্স সেল’-এ চলে যাবে। সেখানে ৩০ দিনের মধ্যে সমাধান না হলে বিষয়টি সরাসরি চলে যাবে ‘দিল্লি রাইট টু সার্ভিস কমিশন’-এর কাছে।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির এই উদ্যোগ সরকারি কর্মীদের মধ্যে কাজের গতি বাড়াতে এবং দুর্নীতি কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করে সরকারি পরিষেবাকে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *