“সালোয়ার খুললে, স্তনে হাত দিলেই ধর্ষণের চেষ্টা নয়”-বিতর্কিত রায় পাটনা হাইকোর্টের

কোনও মহিলার সালোয়ার খোলার চেষ্টা করা বা তাঁর অঙ্গে হাত দেওয়ার ঘটনা ঘটলেই তা ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to Rape) হিসেবে গণ্য করা যায় না—এমনই এক পর্যবেক্ষণ দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে পাটনা হাইকোর্ট। ২০০৮ সালের একটি মামলায় ট্রায়াল কোর্টের রায় খারিজ করে বিচারপতি পূর্ণেন্দু সিং এই রায় দিয়েছেন।

মামলার প্রেক্ষাপট: ২০০৮ সালে বিহারের বাঁকা জেলায় এক তরুণী তাঁর বাবার সঙ্গে স্টুডিওতে ছবি তুলতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, স্টুডিওর মালিক দরজা বন্ধ করে তরুণীর সালোয়ার খোলার চেষ্টা করেন এবং তাঁর স্তনে হাত দেন। তরুণীর বাবার চিৎকারে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। এই ঘটনার ভিত্তিতে নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬/৫১১ (ধর্ষণের চেষ্টা) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল।

হাইকোর্টের যুক্তি: পাটনা হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করার সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে:

  • প্রমাণের অভাব: আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মামলায় তদন্তকারী অফিসার সাক্ষ্য দেননি এবং কোনো মেডিকেল রিপোর্টও পেশ করা হয়নি।

  • অনুপ্রবেশের (Penetration) অভাব: বিচারপতির মতে, ধর্ষণের চেষ্টা প্রমাণ করতে হলে অনুপ্রবেশের স্পষ্ট প্রমাণ বা এমন পদক্ষেপ থাকতে হবে যা দ্ব্যর্থহীনভাবে ধর্ষণের চেষ্টাকেই নির্দেশ করে।

  • ধারার পরিবর্তন: আদালতের মতে, অভিযুক্তর কাজগুলো ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারায় (শ্লীলতাহানি) পড়তে পারে, কিন্তু তা ধর্ষণের চেষ্টার (ধারা ৩৭৬/৫১১) জন্য যথেষ্ট নয়।

এই রায়ের ফলে অভিযুক্তকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর জামিনের দায়বদ্ধতাও খারিজ করা হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত: ধর্ষণের চেষ্টার আইনি সংজ্ঞা নিয়ে এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়ে ১১ বছরের নাবালিকাকে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং তার পায়জামার ফিতা খোলাকে ‘ধর্ষণের প্রস্তুতি’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, যা ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ নয়। সেই রায় নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার পর সুপ্রিম কোর্ট তাতে স্থগিতাদেশ দেয়। পাটনা হাইকোর্টের এই সাম্প্রতিক রায়টিও নারী সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্কের জন্ম দিল।

আইনজীবীদের একাংশের মতে, এই ধরনের রায় শ্লীলতাহানির ঘটনায় অপরাধীদের জন্য সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে, যা সমাজব্যবস্থায় নেতিবাচক বার্তা পাঠাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *