‘ও তো অরিজিনাল রোনাল্ডো!’ অনুব্রতর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ঋতব্রত, ফুঁসছে মমতা

একুশে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে পারদ চড়ছে। এবার মমতা-বিরোধী শিবিরে যোগ দিয়ে সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বীরভূমের একদা ‘শেষ কথা’ অনুব্রত মণ্ডল। বুধবারই কলকাতায় এসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন তিনি। আর প্রথম বৈঠকেই অনুব্রতকে বীরভূম জেলার সভাপতি ঘোষণা করার পাশাপাশি তাঁকে ফুটবলের কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা করলেন ঋতব্রত।

‘অনুব্রত হলেন আর-নাইন (R9)!’ কেষ্ট-স্তুতি ঋতব্রতর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনুব্রত মণ্ডল ও মদন মিত্রের উপস্থিতিতেই ফুটবলের উপমা টেনে আনেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুব্রতর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমি তো অনুব্রত মণ্ডলকে আর-নাইন (ব্রাজিলের রোনাল্ডো) বলে মনে করি। পেনাল্টি বক্সে তাঁর থেকে ভয়ঙ্কর খেলোয়াড় তো আর আসেনি, আজও পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেনি। অনুব্রত আমার কাছে মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নন, উনি অরিজিনাল রোনাল্ডো। আর মদন মিত্র হলেন রোনাল্ডিনিহো।” ঋতব্রতর মুখে এই প্রশংসা শুনে পাশে বসে হাসতে দেখা যায় মদন ও কেষ্ট দু’জনকেই।

জেলযাত্রার জন্য দায়ী অভিষেক! সরব অনুব্রত সন্দীপন সাহাদের শিবিরে নাম লেখানোর পর আজই প্রথম কলকাতায় এসে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন অনুব্রত। বৈঠক শেষে তিনি সাফ জানান, দলের আজকের এই ভরাডুবির জন্য দায়ী খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি নিজের পুরনো জেলযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, অভিষেকের চক্রান্তের কারণেই তাঁকে দীর্ঘদিন জেলে কাটাতে হয়েছিল।

তারকা নয়, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে থাকবেন শহিদ পরিবার আগামী একুশে জুলাই গান্ধী মূর্তির পাদদেশে পাল্টা সমাবেশের ডাক দিয়েছে ঋতব্রত শিবির। সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি বৈঠকেই এদিন জুমের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন জেলার নেতারাও। কত লোক হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত স্পষ্ট জানান, “সেদিনের মঞ্চে কোনও তারকা বা সিরিয়াল আর্টিস্টকে জায়গা দেওয়া হবে না। শহিদদের পরিবারের সদস্যরা গুরুত্ব পাবেন, তাঁরাই মঞ্চের সামনে থাকবেন।”

তহবিলের টাকা কর্মীদের জন্য, মমতাকে পাল্টা বার্তা দলের আর্থিক তহবিল নিয়ে সুর চড়িয়ে ঋতব্রত বলেন, “তৃণমূল স্তরের একটি দল হলো তৃণমূল কংগ্রেস। তাই যদি কোনও অর্থ থাকে, তা মাঠের কর্মীদের জন্যই ব্যবহার করা উচিত। আমরা নিশ্চিত করব, দলের তহবিল যেন কোনও ব্যক্তির স্বার্থে ব্যবহার না হয়।” অন্যদিকে, এদিন বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি পাল্টা বার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা এখানে সমষ্টিগত লড়াই লড়ছি। ওদিকে চলছে একতরফা বক্তব্য, আর আমাদের দিকে রয়েছে সংলাপের লড়াই।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *