২০ বছর পর সামনে এলো সত্যি, হাকিমের ওষুধ বলে ড্রাগস নিতেন শোয়ের আখতার

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের মাটিতে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সফর ঘিরে এক বিস্ফোরক দাবি করলেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটারি আরভিএস মণি। একটি পডকাস্টে তিনি দাবি করেছেন, প্রায় ২০ বছর আগে ভারত সফরের সময় পাক পেসার শোয়েব আখতার এবং মহম্মদ আসিফ মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই মন্তব্যের পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমহলে পাকিস্তান ক্রিকেটের সেই অন্ধকার দিক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে।

কী দাবি করলেন আরভিএস মণি? আরভিএস মণি জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে ভারতে এসেছিল পাকিস্তান দল। সেই সময় শোয়েব ও আসিফ নাকি তৎকালীন পাকিস্তান হাইকমিশনারের সামনেই স্বীকার করেছিলেন যে তাঁরা নিজেদের সঙ্গে মাদক নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। মণির দাবি, সেই ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে পাঠানো হয়।

২০০৬ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কী হয়েছিল? ইতিহাস বলছে, ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে সেই সফরটি পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত কলঙ্কজনক ছিল। ১৬ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচের ঠিক আগের দিন জানা যায়, ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন শোয়েব আখতার ও মহম্মদ আসিফ। তাঁদের রক্তে নিষিদ্ধ অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ‘ন্যান্ড্রোলন’-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। কোচ বব উলমারের উদ্যোগে হওয়া এই পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) তড়িঘড়ি তাঁদের টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেয়।

অভিযোগ, সাফাই ও নিষেধাজ্ঞা:

  • শোয়েবের দাবি: সেই সময় শোয়েব আখতার দাবি করেছিলেন, তিনি শুধুমাত্র চোট সারাতে একজন হাকিমের দেওয়া ভেষজ ওষুধ খেয়েছিলেন। তবে তদন্ত কমিটি এই দাবি মানেনি।

  • নিষেধাজ্ঞা: তদন্ত শেষে ১ নভেম্বর ২০০৬ সালে PCB-র ডোপিং ট্রাইব্যুনাল শোয়েব আখতারকে ২ বছরের এবং মহম্মদ আসিফকে ১ বছরের জন্য নির্বাসনে পাঠায়।

  • দ্বিতীয় পরীক্ষার সুযোগ: দুই ক্রিকেটারকে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের জন্য দ্বিতীয়বার ডোপ পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হলেও, তাঁরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

কোচ বব উলমারের মৃত্যু রহস্য: আরভিএস মণি তাঁর পডকাস্টে আরও এক চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, পাকিস্তান দলের তৎকালীন কোচ বব উলমার দলের মধ্যে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার পক্ষে ছিলেন। উলমার পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এই অনিয়মের ঘোর বিরোধী ছিলেন। ২০০৭ সালের ১৮ মার্চ জামাইকায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় বব উলমারের। মণির দাবি, দলের ভেতরের মাদকচক্রের বিরোধিতা করায় উলমারকে সরানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে।

এই বিস্ফোরক অভিযোগ পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালো। যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে এই নতুন দাবির বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *