‘অভিষেকের জন্যই জেলে গিয়েছিলাম!’-দল ছেড়েই বিস্ফোরক অনুব্রত, ২১ জুলাইয়ের আগে মহাধমাকা!

একুশে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের ঠিক মুখেই বাংলার রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন ওলটপালট। তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ এবার প্রকাশ্য বিদ্রোহের রূপ নিল। ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল।
বিস্ফোরক কেষ্ট এর আগে বহুল চর্চিত গোরু পাচার মামলায় দীর্ঘ সময় শ্রীঘরে কাটাতে হয়েছিল অনুব্রত মণ্ডলকে। এতদিন পর সেই জেলযাত্রা নিয়ে নীরবতা ভেঙে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। অনুব্রতর স্পষ্ট দাবি, অভিষেকের চক্রান্তের কারণেই তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল। এখানেই থামেননি বীরভূমের সদ্যনিযুক্ত ঋতব্রত শিবিরের জেলা সভাপতি। তিনি সাফ জানান, “তৃণমূলে আজ যা যা সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সবটার জন্যই দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে কেউ আর মমতা-শিবিরে থাকবেন না।”
একমঞ্চে অনুব্রত-মদন, নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়িয়ে বুধবারই ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র। এদিন গোলপার্কে ঋতব্রত শিবিরের তরফে একুশে জুলাইয়ের পাল্টা একটি কর্মসূচির প্রস্তুতি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই বৈঠকেই একসঙ্গে হাজির হন অনুব্রত মণ্ডল এবং মদন মিত্র। একইসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা শোনা যায় কেষ্টর গলায়। তিনি বলেন, “শুভেন্দু কর্মঠ, লড়াকু ছেলে। ও রাজনীতিটা বোঝে এবং শিখেছে।”
‘বেইমানদের জন্য ক্ষমা চাইছি’, ফেসবুক লাইভে আবেগঘন মমতা দলের দুই হেভিওয়েট নেতার এভাবে শিবির বদল এবং অভিষেকের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগার পর আর চুপ থাকেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিকেলেই ফেসবুক লাইভে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। দলত্যাগীদের ‘বেইমান’ আখ্যা দিয়ে কার্যত আবেগপ্রবণ গলায় তিনি বলেন, “বেইমানদের জন্য আমি করজোড়ে ক্ষমা চাইছি।” সেই সঙ্গেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তার দিকে ইঙ্গিত করে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “আমি যদি সেটিং করতাম, তাহলে আজ এই অত্যাচার আমাকে সহ্য করতে হতো না।”
সব মিলিয়ে, একুশে জুলাইয়ের প্রাক্কালে অনুব্রত ও মদন মিত্রের এই দলবদল এবং সরাসরি অভিষেক-বিরোধিতা রাজ্যের শাসক শিবিরের অন্দরে বড়সড় কম্পন তৈরি করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।