১৬ না ১৭ অগাস্ট, নাগ পঞ্চমী কবে? জেনেনিন মা মনসা পুজোর দিনক্ষণ

সনাতন ধর্মে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চম তিথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটি নাগ পঞ্চমী হিসেবে পালিত হয়, যা ভগবান শিব ও সর্পদেবতার আরাধনার জন্য বিশেষ দিন। বাংলার অনেক অঞ্চলে এই দিনটিতে মা মনসার পুজোও সাড়ম্বরে সম্পন্ন হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে ভক্তিভরে পুজো করলে জীবনের নানা বাধা দূর হয় এবং কালসর্প দোষের প্রভাবও হ্রাস পায়।
নাগ পঞ্চমী ২০২৬: তারিখ ও শুভ মুহূর্ত হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালে নাগ পঞ্চমীর তিথি ও পুজোর সময়সীমা নিচে দেওয়া হলো:
-
তিথি শুরু: ১৬ অগাস্ট, বিকেল ৪টা ৫২ মিনিট।
-
তিথি শেষ: ১৭ অগাস্ট, বিকেল ৫টা।
-
উৎসবের দিন: ১৭ অগাস্ট, সোমবার।
-
পুজোর শুভ সময়: ১৭ অগাস্ট, ভোর ৬টা ০৪ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত।
পুজোর নিয়মবিধি ও করণীয়: নাগ পঞ্চমীর দিন সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে পুজোর প্রস্তুতি শুরু করতে হয়। বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বার কিংবা ঠাকুরঘরে মাটি বা গোবর দিয়ে নাগ দেবতার প্রতীক তৈরি করে পুজো করার রীতি রয়েছে। নাগ দেবতাকে ফুল, দুধ ও নৈবেদ্য নিবেদন করে ধূপ-প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করুন। সবশেষে নাগ পঞ্চমীর ব্রতকথা পাঠ করা অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়।
শিবলিঙ্গে পুজো ও বিশেষ মন্ত্র: নাগ পঞ্চমীর পুজোয় ভগবান শিবের আশীর্বাদ পাওয়া একান্ত কাম্য। তাই পুজোর শুরুতে শিবলিঙ্গে জল নিবেদন (জলাভিষেক) করুন। এরপর শিবলিঙ্গে কাঁচা দুধ অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ। পুজোর সময় “ওম নমঃ শিবায়” মন্ত্র জপ করলে জীবনে আসা নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং ভয় থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে মনে করেন ভক্তরা। মনে রাখবেন, জলাভিষেকের জন্য তামার পাত্র ব্যবহার করাই শাস্ত্রসম্মত।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রাবণ, ভাদ্র কিংবা আশ্বিন সংক্রান্তিতেও সাড়ম্বরে মনসা পুজো ও পদ্মপুরাণ পাঠের আয়োজন করা হয়। ভক্তি ও বিশ্বাসের সঙ্গে এই পুজো করলে জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।