অযোধ্যা রাম মন্দিরের সিইও পদের জন্য আবেদনের বন্যা! দৌড়ে প্রাক্তন আইপিএস-আমলারা

রাম মন্দিরের পরিচালন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার করে তুলতে ‘চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার’ (CEO) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। আর এই ঘোষণার পর থেকেই পদের জন্য আবেদনের হিড়িক পড়েছে দেশজুড়ে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাস্টের ইমেলে জমা পড়েছে হাজারেরও বেশি আবেদনপত্র, যার সিংহভাগই এসেছে দেশের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ আমলা ও উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছ থেকে।
প্রাক্তন আইপিএস অফিসারের আবেদন
তালিকায় থাকা আবেদনকারীদের মধ্যে অন্যতম হলেন উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের প্রাক্তন আইপিএস অফিসার অমিতাভ ঠাকুর। তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, রাম মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে তিনি এই পদের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। আবেদনের শেষ তারিখ ১৮ জুলাই। ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষদিন পর্যন্ত এই সংখ্যা কয়েক হাজারে গিয়ে পৌঁছাবে।
বাছাই পর্বের কঠিন চ্যালেঞ্জ
আবেদনের সংখ্যা প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে যাওয়ায় ট্রাস্টের নির্বাচন কমিটি এবার স্ক্রিনিংয়ের জন্য আলাদা করে একজন সচিব নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ট্রাস্ট একটি তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের সিলেকশন কমিটি গঠন করেছে:
বিচারপতি প্রমোদ কোহলি: সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী।
সুরেশ হবারে: শিরডি সাইবাবা সংস্থান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান।
আগামী ১৯ জুলাই এই কমিটির বৈঠক রয়েছে, যেখানে আবেদনপত্রগুলো খুঁটিয়ে দেখা হবে।
সিইও পদের জন্য ট্রাস্টের বেঁধে দেওয়া শর্তাবলী:
মন্দিরের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদের জন্য ট্রাস্ট বেশ কিছু কঠিন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে:
বয়স: ৫০ থেকে ৭০ বছর।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ২০ বছরের উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা।
বাসস্থান: নির্বাচিত প্রার্থীকে স্থায়ীভাবে অযোধ্যাতেই বসবাস করতে হবে।
ধর্ম ও ভাষা: প্রার্থীকে অবশ্যই একজন একনিষ্ঠ হিন্দু হতে হবে এবং শ্রী রামচন্দ্রের প্রতি অগাধ বিশ্বাস থাকতে হবে। পাশাপাশি হিন্দি ও ইংরেজিতে হতে হবে পারদর্শী।
পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রাথমিক বাছাইয়ের পর শর্টলিস্টেড প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। অনলাইন (জুম/গুগল মিট) এবং সশরীরে—উভয় মাধ্যমেই ইন্টারভিউ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ২২ জুলাই ট্রাস্টের সাধারণ সভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে রিপোর্ট পেশ করা হবে।
ইতিমধ্যেই রাম মন্দিরে অনুদান তছরুপের অভিযোগের তদন্ত চলছে, সেই আবহে মন্দিরের পরিচালন ব্যবস্থায় এই পেশাদার নিয়োগের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।