গুপ্তধনের লোভে নরবলি! কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে, চাঞ্চল্য মধ্যপ্রদেশে

কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাসের এক চরম ও মর্মান্তিক পরিণতির সাক্ষী হলো মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলা। গুপ্তধন উদ্ধারের নেশায় এক ৪২ বছর বয়সী ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে নরবলি দেওয়ার অভিযোগ উঠল তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত ৭ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিলেন ব্যবসায়ী বিজয় জৈন। নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিনের মাথায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হলো তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
নিহত বিজয় জৈন রাইসেনের এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিত্তশালী ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য ছিলেন। গত ৭ জুলাই রহস্যজনকভাবে তিনি নিখোঁজ হন। ৯ জুলাই পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। অবশেষে ১৩ জুলাই পারাসিয়া গ্রামের কাছে এক নদীর তীরে কাদার মধ্যে পুঁতে রাখা অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহের বিশেষ কিছু চিহ্ন ও কৃত্রিম চোখের সাহায্যে পরিবার তাঁকে শনাক্ত করে।
তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
তদন্তে নেমে গৈরতগঞ্জ পুলিশ প্রহ্লাদ সাহু নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের পর সামনে আসে লোমহর্ষক এক ষড়যন্ত্রের কথা। প্রহ্লাদ সাহু নিজেকে তান্ত্রিক দাবি করত। বিজয়ের সঙ্গে তার পরিচিতি ছিল এবং প্রায়ই তারা গুপ্তধন সংক্রান্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন আলোচনা করত। অভিযুক্তদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, নদীর তীরে বিশাল গুপ্তধন লুকিয়ে আছে।
যেভাবে ঘটল নৃশংস হত্যাকাণ্ড
পুলিশি জেরায় জানা যায়, ৭ জুলাই প্রহ্লাদ তার সহযোগী করিম খান এবং ছেলে টিকাম সাহুকে নিয়ে ব্যবসায়ী বিজয়কে মোটরসাইকেলে করে নদীর তীরে নিয়ে যায়। তান্ত্রিক আচারের নামে প্রহ্লাদ হঠাৎ চিৎকার করে বলে ওঠে, “পৃথিবী উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, গুপ্তধন বলিদান চাইছে।” এই কথা বলেই তারা বিজয়কে জাপটে ধরে এবং কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে তাঁর শিরশ্ছেদ করে। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহটি নদীর তীরে পুঁতে দেয়।
গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত প্রহ্লাদ সাহু, করিম খান এবং টিকাম সাহুকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে অপরাধে ব্যবহৃত কুড়াল, বেলচা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। রাইসেনের এএসপি দীপক নায়েক জানিয়েছেন, মামলার গুরুত্ব বুঝে ডগ স্কোয়াড ও ফরেনসিক দল কাজ করছে। অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির জন্য পুলিশ সবরকম আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে বিজয় জৈনের বাড়িতে ৩ কোটি টাকার এক ডাকাতির ঘটনা রাজ্যজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। সেই বড় ঘটনার পর থেকেই তিনি ব্যবসার হাল ধরেছিলেন। এমন এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা অঞ্চলে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।