‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ মিথ্যে! নীরবতা ভেঙে নিজের বিয়ে নিয়ে বিস্ফোরক আমির খান

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ফের উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। তৃতীয় বিয়ের পর থেকেই তারকাকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ধর্মীয় নেতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—অনেকেই তাঁর এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে আক্রমণ করেছেন। কিন্তু লাগাতার এই সমালোচনার মুখে অবশেষে মুখ খুললেন আমির খান।
আমিরকে নিয়ে বিতর্ক ও হুমকির পাহাড়:
আমিরের তৃতীয় বিবাহকে কেন্দ্র করে সমাজের বিশিষ্টদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। বিজেপি নেতা তথা মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে আমিরের এই বিবাহকে ‘লাভ জিহাদ’-এর তকমা দিয়েছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে জগৎগুরু পরমহংসের মন্তব্যে, যিনি আমিরকে হত্যা করতে পারলে ৫ কোটি টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশের ‘মুসলিম পার্সোনাল দারুল ইফতা’ প্রধান মুফতি মওলানা চৌধুরী ইব্রাহিম হোসেন আমিরের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন।
নিজে কী বলছেন আমির?
সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আমির সাফ জানিয়েছেন, তাঁর বিয়েকে ‘লাভ জিহাদ’ বলা একেবারেই ভুল। তিনি বলেন, “আমি রিনা দত্ত কিংবা কিরণ রাও কাউকেই বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করিনি। তাঁরা নিজ ধর্ম পালন করেছেন। আমার তৃতীয় স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাট খ্রিস্টান। তাই লাভ জিহাদের এখানে কোনো প্রশ্নই নেই।”
নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তারকা আরও বলেন, “আমি ব্যক্তিগত জীবনের কথা প্রকাশ্যে আনি না, তাই আমার স্ত্রীদের ধর্মপালন নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনটা যেন এক কৌতুক হয়ে উঠছে!” আমিরের মতে, তাঁর সম্পর্কের মূল ভিত্তি বিশ্বাস ও ভালোবাসা, সেখানে ধর্ম কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, তাঁর দুই বোন এবং কন্যা ইরা বিয়ে করেছেন হিন্দু পরিবারে, আবার তাঁর এক তুতো ভাই বিয়ে করেছেন খ্রিষ্টান নারীকে।
বিতর্কের প্রেক্ষাপট:
আমির খান মুখ খোলার আগেই একাধিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। মুফতির দাবি ছিল, ইসলাম অনুযায়ী অ-মুসলিম নারীকে বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মান্তরিত হওয়া বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা নীতেশ রানের মতে, তারকাদের এমন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়ে হিন্দু সমাজের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
ধর্মীয় রক্ষণশীলতা এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষের এই দ্বন্দ্বে আমিরের পরিবার যে এক অসাম্প্রদায়িক রূপ ধারণ করেছে, তা এই পাল্টা জবাবে স্পষ্ট। তবে ফতোয়া এবং হত্যার হুমকির মতো চরম মন্তব্য যে তারকাকে ঘিরে এক জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।