গর্ভবতী মায়েরা সাবধান! ডেলিভারির ডেট আসার আগেই ব্যাগে ভরে রাখুন এই ১০টি জিনিস, নয়তো শেষ মুহূর্তে পস্তাতে হবে

গর্ভাবস্থার শেষ কয়েকটা সপ্তাহ প্রতিটি হবু মায়ের জন্যই অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং একই সাথে সংবেদনশীল। এই সময় যেকোনো মুহূর্তে প্রসববেদনা (Labor Pain) শুরু হতে পারে। চিকিৎসকেরা আল্ট্রাসোনোগ্রাফি বা হিসাব কষে সম্ভাব্য ডেলিভারির একটি তারিখ (EDD) নির্ধারণ করে দিলেও, বাস্তবে ঠিক কোন দিন সন্তান পৃথিবীতে আসবে, তা নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব।

তাই শেষ মুহূর্তের প্যানিক বা তাড়াহুড়ো এড়াতে সম্ভাব্য তারিখের অন্তত ২-৩ সপ্তাহ আগেই ‘হসপিটাল ব্যাগ’ গুছিয়ে রাখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

কেন আগে থেকেই হসপিটাল ব্যাগ গুছিয়ে রাখবেন?
হঠাৎ প্রসববেদনা শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে ছোটোছুটি করতে হয়। সেই জরুরি মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খুঁজে বের করার সময় বা মানসিক অবস্থা—কোনোটাই থাকে না। আগে থেকে ব্যাগ প্রস্তুত থাকলে অযথা মানসিক চাপ কমে, মূল্যবান সময় বাঁচে এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় সবকিছু হাতের কাছেই পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহের মধ্যে এই ব্যাগ গুছিয়ে ফেলা উচিত। তবে যাদের যমজ সন্তান, উচ্চ রক্তচাপ বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের মতো জটিলতা আছে, তারা আরও আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন।

হসপিটাল ব্যাগে কী কী রাখবেন? রইল জরুরি তালিকা:
জরুরি সময়ে যাতে খুঁজতে না হয়, তাই ব্যাগের জিনিসগুলোকে তিনটি ভাগে গুছিয়ে ফেলুন:

১. হবু মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস:
মেডিকেল ফাইল: জাতীয় পরিচয়পত্র, হাসপাতালের সব কাগজপত্র, প্রেসক্রিপশন ও গর্ভকালীন সমস্ত মেডিকেল রিপোর্ট একটি নির্দিষ্ট ফাইলে রাখুন।

পোশাক ও অন্তর্বাস: হাসপাতালে পরার জন্য আরামদায়ক ও ঢিলেঢালা পোশাক, নার্সিং ব্রা এবং প্রয়োজনীয় অন্তর্বাস।

ম্যাটারনিটি প্যাড: সাধারণ প্যাডের চেয়ে শোষনক্ষমতা বেশি এমন স্যানিটারি ম্যাটারনিটি প্যাড পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখুন।

টয়লেট্রিজ: টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, হালকা সাবান, শ্যাম্পু, চিরুনি ও তোয়ালে।

অন্যান্য: মোবাইল চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক, পানির বোতল ও হালকা শুকনো খাবার।

২. নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস:
নতুন অতিথির জন্য নরম সুতি জামা (জীবাণুমুক্ত করা)।

নবজাতকের মাথা ও হাত-পা ঢেকে রাখার জন্য টুপি, হাতমোজা ও পায়ের মোজা।

শিশুকে জড়িয়ে রাখার জন্য নরম বেবি কম্বল বা সুতির কাঁথা।

নবজাতকদের উপযোগী নরম ডায়াপার ও বেবি ওয়াইপস।

শিশুর জন্য আলাদা নরম তোয়ালে বা সুতি গামছা।

৩. সঙ্গীর জন্য (স্বামী বা পরিবারের সদস্য):
হাসপাতালে রাত জাগার বা থাকার জন্য অতিরিক্ত একজোড়া পোশাক।

প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল চার্জার।

এনার্জি ধরে রাখতে হালকা শুকনো খাবার ও পানির বোতল।

শেষ মুহূর্তের কিছু গোল্ডেন টিপস:
টাকা-পয়সার ব্যাকআপ: নগদ কিছু টাকা কাছে রাখুন এবং ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা অনলাইন পেমেন্টের বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখুন।

জরুরি নম্বর: হাসপাতালের ঠিকানা ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স বা চিকিৎসকের নম্বর মোবাইলের পাশাপাশি একটি কাগজে লিখে রাখুন।

ব্যাগ রাখুন সামনে: গোছানো ব্যাগটি ঘরের এমন জায়গায় রাখুন যেন দরকারে যে কেউ এক দেখাতেই সেটি হাতে তুলে নিতে পারে। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ব্যাগটির অবস্থান জানিয়ে রাখুন।

সম্পাদকীয় নোট: প্রসব একটি স্বাভাবিক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। সময়মতো নিখুঁত প্রস্তুতি থাকলে জরুরি মুহূর্তে অযথা দুশ্চিন্তা না করে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছানো সহজ হয়। তবে আপনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি নির্দিষ্ট কোনো তালিকা দিয়ে থাকে, তবে সেটিকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দেবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *