আইনজীবী না কি অপরাধী? ৪০০০-এর বেশি আইনজীবীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, তোলপাড় এলাহাবাদ হাইকোর্ট!

বিচারব্যবস্থার পবিত্রতা রক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের বার অ্যাসোসিয়েশনগুলো সেইসব আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, যারা কার্যত ‘গ্যাংস্টার’ বা ‘মাফিয়া’ হিসেবে কাজ করছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যের প্রতিটি আদালতে এমন অনেক আইন পেশাজীবী রয়েছেন যারা অপরাধ জগত থেকে বাঁচতে আদালতকে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
পরিসংখ্যান যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মোহাম্মদ কাফিল বনাম উত্তরপ্রদেশ সরকার মামলায় হাইকোর্ট এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। তথ্য বলছে:
মোট অভিযুক্ত আইনজীবী: ৪,১৫৭ জন।
মোট ফৌজদারি মামলা: ৫,০৫৬টি।
৩ বা তার বেশি মামলার আসামি: ৪১৮ জন আইনজীবী।
১১ বা তার বেশি মামলার আসামি: ২৮ জন।
৫ থেকে ১০টি মামলার আসামি: ১২৬ জন।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, আদালতে এমন আইনজীবীও প্র্যাকটিস করছেন যাদের বিরুদ্ধে ৪৬টি বা তার বেশি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া লখনউয়ের ওয়াজিরগঞ্জ থানায় ৪২২ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে ২৩৬টি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেছে।
হাইকোর্টের কড়া পদক্ষেপ ও নির্দেশ
বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, বিচারকরাও অনেক ক্ষেত্রে এই অপরাধী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংকোচ বোধ করেন। এই ‘প্রাতিষ্ঠানিক উদ্বেগ’ কাটাতে আদালত বেশ কিছু কঠোর নির্দেশ দিয়েছে:
১. মামলা স্থানান্তর: কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে যদি তার নিজ জেলায় ফৌজদারি মামলা থাকে, তবে তা অন্তত ১০০ কিলোমিটার দূরের অন্য কোনো জেলায় স্থানান্তর করতে হবে।
২. নকল ডিগ্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: বার কাউন্সিল অব উত্তরপ্রদেশ কর্তৃক চিহ্নিত ১০৫ জন নকল ডিগ্রিধারী আইনজীবীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, বার কাউন্সিলের তথ্য বাস্তবের চেয়ে অনেক কম।
৩. শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়াকড়ি: বার অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে তাদের সদস্যদের অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা ঝেড়ে ফেলে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশ্লেষণ: কেন এই পরিস্থিতি?
আইন পেশার মতো একটি সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল জায়গায় ‘মাফিয়া’ ও ‘গ্যাংস্টারদের’ অনুপ্রবেশ বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে নষ্ট করছে। হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা উত্তরপ্রদেশের বিচার ব্যবস্থায় এক বড়সড় ‘শুদ্ধি অভিযান’ হিসেবে গণ্য হবে।
এখন দেখার বিষয়, হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর রাজ্য বার কাউন্সিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত নকল ডিগ্রিধারী এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।