লখনউয়ের কেজিএমইউ-এর সমস্ত হোস্টেলে আমিষ খাবার নিষিদ্ধ! রাজভবনের নির্দেশের পরেই কড়া পদক্ষেপ

লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (KGMU) তাদের সমস্ত হোস্টেলের মেসগুলোতে আমিষ খাবার তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হোস্টেলের মেস এখন থেকে শুধুমাত্র নিরামিষ আহার পরিবেশন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য তথা রাজ্যপাল আনন্দিবেন প্যাটেলের মন্তব্যের পরেই এই বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

কেন এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত?
সম্প্রতি রাজভবন থেকে একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসগুলো পরিদর্শন করেছিল। সেই পরিদর্শনের রিপোর্ট অনুযায়ী, মেসগুলোতে আমিষ খাবার তৈরির পাশাপাশি মশলার গুণমান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। পরিদর্শনে দেখা যায়, বেশ কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মশলার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। রাজ্যপাল আনন্দিবেন প্যাটেল খাবারের মান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ খাবার সরবরাহের বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হোস্টেলের মেসগুলোতে আমিষ খাবার তৈরি সম্পূর্ণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কী জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ?
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র অধ্যাপক কে. কে. সিং জানান, সমস্ত হোস্টেলে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের ওপর হস্তক্ষেপ নয়। অর্থাৎ, কোনো শিক্ষার্থী আমিষ খাবার খেতে চাইলে তারা হোস্টেল চত্বরের বাইরে গিয়ে তা খেতে পারেন অথবা বাইরের কোনো রেস্তোরাঁ থেকে অর্ডার করতে পারেন। তবে হোস্টেলের মেস চত্বরের ভেতরে আমিষ রান্না বা পরিবেশন করা আর সম্ভব হবে না।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া:
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় ডায়েট সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তনের এই উদ্যোগ নিয়ে পড়ুয়াদের একাংশের মধ্যে যেমন অস্পষ্টতা রয়েছে, তেমনই অনেকে স্বাস্থ্যকর খাবারের মান নিয়ে রাজ্যপালের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আপাতত কেজিএমইউ-এর এই নিরামিষ ফরমান কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় এখন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *