মোবাইল ছেড়ে বইয়ের নেশা! স্কুল পড়ুয়াদের জন্য অভিনব ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’ চালু করলেন সুকান্ত মজুমদার

বর্তমান প্রজন্মের স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইল আসক্তি কমিয়ে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে এক অভিনব উদ্যোগ নিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে তিনি চালু করলেন এক অত্যাধুনিক ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’। শনিবার রাতে বালুরঘাট থানা মোড়ে এই বিশেষ বাসের উদ্বোধন করেন তিনি।
কী রয়েছে এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিতে?
সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির জন্য বিশেষভাবে একটি বাসকে সাজানো হয়েছে। বাসের ভেতরে বসার ব্যবস্থাও রয়েছে, যাতে পড়ুয়ারা আরাম করে বই পড়তে পারে। এই সংগ্রহশালায় রয়েছে এক বিশাল সম্ভার:
বাংলা সাহিত্য: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সব সাহিত্য।
বিশ্ব সাহিত্য: শেক্সপিয়র, ওয়ার্ডসওয়ার্থ ও কিটসের মতো বিশ্বখ্যাত লেখকদের বই।
অন্যান্য: এছাড়াও দেশ-বিদেশের নানা লেখকের বই এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে রামায়ণ ও মহাভারতের মতো মহাকাব্যের প্রদর্শনী।
কার্যপদ্ধতি:
বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা এলাকা জুড়ে এই বাসটি ঘুরে বেড়াবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিন বা দুদিন করে এই বাস প্রতিটি স্কুলের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে। শুধু স্কুল নয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও এই লাইব্রেরি পৌঁছে যাবে। পড়ুয়াদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই এই ‘মুভিং লাইব্রেরি’র পরিকল্পনা।
অন্যান্য কর্মসূচি:
লাইব্রেরির উদ্বোধনের পাশাপাশি সুকান্ত মজুমদার এদিন বালুরঘাটের মাহিনগরে ভারত সরকারের ‘ন্যাশনাল বাম্বু মিশন’-এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও যান। সেখানে বাঁশ ও বেতের সামগ্রী তৈরিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলাদের স্কলারশিপ প্রদান করেন তিনি। বাঁশের তৈরি ঘর সাজানোর জিনিস, জুয়েলারি থেকে শুরু করে ধূপকাঠি তৈরির মতো হস্তশিল্প দেখে তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উৎসাহিত করেন।
সুকান্ত মজুমদারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবক মহল। তাঁদের মতে, প্রযুক্তির যুগে যখন পড়ুয়ারা বই থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে, তখন ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মতো প্রচেষ্টা তাদের পড়াশোনার প্রতি পুনরায় আগ্রহী করে তুলবে।