অভিষেকের বিরুদ্ধে কি কড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন মমতা? সমীক্ষায় কী রায় দিলেন সাধারণ মানুষ?

২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার একটি মামলায় পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষের গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই ঘটনার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তৃণমূল কংগ্রেস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একটি জনমত সমীক্ষা চালানো হয়। সেই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মতামত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
কী উঠে এল সমীক্ষায়?
ইউটিউব, ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস-এর মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে করা এই সমীক্ষায় চারটি প্রধান প্রশ্ন রাখা হয়েছিল:
নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ: তীর্থঙ্কর ঘোষের গ্রেফতারির পর নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে কি আইনি পদক্ষেপ হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে ৯১ শতাংশ অংশগ্রহণকারীই ‘হ্যাঁ’ বলেছেন।
রাজনৈতিক চাপের মুখে নির্মল ঘোষ: অভিযোগের চাপে পড়েই কি নির্মল ঘোষ একটি রাজনৈতিক বৈঠকে তড়িঘড়ি যোগ দিয়েছিলেন? এই প্রশ্নে ৯৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, তিনি চাপে পড়েই সেই বৈঠক করেছেন।
রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার জন্য কি রাজনৈতিক প্রভাব দায়ী ছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে ৯৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন।
মমতা ও অভিষেকের সমীকরণ: দলকে বাঁচাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ৭৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। মাত্র ১৯ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ বলেছেন।
বিশ্লেষণ ও বিতর্ক:
সমীক্ষার আয়োজকদের দাবি, ইন্টারনেটে সক্রিয় সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই এই ফলাফল সংকলন করা হয়েছে। এই সমীক্ষা মূলত শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়ে মমতার অবস্থান নিয়ে মানুষের এই সংশয় তৃণমূলের অন্দরে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই ধরনের অনলাইন সমীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে পারে, তবুও এই ফলাফল বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।