শরীরের ছোট্ট মাংসপিণ্ড, কিন্তু কাজ বিশাল! ‘আলজিভ’ বা উভিউলা আসলে কেন থাকে জানেন?

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ হাঁ করলে গলার শেষ প্রান্তে ছোট্ট একটি মাংসপিণ্ড ঝুলে থাকতে দেখা যায়। একে আমরা সাধারণ ভাষায় বলি ‘আলজিভ’, আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘উভিউলা’ (Uvula)। অনেকেই ভাবেন এটি হয়তো শরীরে কোনো কাজেই লাগে না, কিন্তু আধুনিক বিবর্তনমূলক জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে—এই ছোট্ট অঙ্গটি ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা ও কথাবার্তা বলা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ত।

উভিউলা কেন গুরুত্বপূর্ণ? জানুন এর ৪টি বড় কাজ:
১. খাবারকে সঠিক পথে পাঠানো: আমরা যখন খাবার বা জল গিলি, তখন আলজিভ এবং নরম তালু (Soft Palate) ওপরের দিকে উঠে নাসাপথকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে খাবার বা পানীয় ভুল করে নাকে প্রবেশ করতে পারে না, সরাসরি খাদ্যনালীতে চলে যায়।

২. গলার আর্দ্রতা ধরে রাখা: আলজিভের ভেতরে প্রচুর ‘সেরোমিউকোস গ্ল্যান্ড’ থাকে। আমরা যখন অনর্গল কথা বলি, তখন গলা শুকিয়ে যেতে পারে। আলজিভ ক্রমাগত লালা নিঃসরণ করে গলা ও মুখের ভেতরটাকে আর্দ্র রাখে, যা দীর্ঘক্ষণ কথা বলার সময় টিস্যুর ঘর্ষণজনিত ক্ষতি রোধ করে।

৩. ভাষা ও স্বর তৈরিতে: মানুষের জটিল ভাষা ও স্বর তৈরিতে আলজিভের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ফরাসি, জার্মান বা আরবি ভাষার মতো অনেক ভাষায় ‘উভিউলার কনসোনেন্টস’ উচ্চারণের জন্য আলজিভের কম্পন বা মুভমেন্ট অপরিহার্য। মানুষের কণ্ঠস্বরকে নিয়ন্ত্রণ ও মডিউলেট করতে এটি সাহায্য করে।

৪. বিবর্তনের অনন্য সৃষ্টি: বিবর্তনবিদদের মতে, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে একমাত্র মানুষ এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রাইমেটদের শরীরেই এমন উন্নত ও ঝুলন্ত উভিউলা দেখা যায়। মানুষ যখন চার পায়ে হাঁটা ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে শিখল, তখন মুখের ভেতরের কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে এই অঙ্গটি মানুষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।

কেন এটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ নয়?
অনেকদিন পর্যন্ত মানুষের ধারণা ছিল আলজিভ একটি নিষ্ক্রিয় বা ‘ভেস্টিজিয়াল’ অঙ্গ। কিন্তু বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, খাবার গিলতে সাহায্য করা থেকে শুরু করে উন্নত ভাষা গঠনে এটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং বিবর্তনের ধারায় ভাষা ও কণ্ঠস্বরের বিকাশের প্রয়োজন মেটাতেই মানুষের শরীরে এই অনন্য উভিউলার সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *