‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’ স্রেফ ভাঁওতা! মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ জয়রাম রমেশের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০১৪ সালের বিখ্যাত নির্বাচনী স্লোগান ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’ (আমিও খাব না, কাউকে খেতেও দেব না)-কে সরাসরি ‘ভাঁওতা’ বলে দাগিয়ে দিলেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। সোমবার একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, মোদী সরকার আসলে ‘ন্যূনতম শাসন, সর্বাধিক ধামাচাপা’ নীতিতে চলছে।
কংগ্রেসের অভিযোগের তালিকা:
জয়রাম রমেশের মতে, মোদী সরকারের গত কয়েক বছরের কর্মকাণ্ডে দুর্নীতির অগণিত দৃষ্টান্ত রয়েছে। তিনি নোটবন্দি থেকে শুরু করে ইলেক্টোরাল বন্ড, রাফাল চুক্তি, পিএম কেয়ার্স ফান্ড এবং ক্যাগ (CAG) রিপোর্টে উঠে আসা অডিট সংক্রান্ত অনিয়মের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ‘আদানি সাম্রাজ্যের’ অস্বাভাবিক উত্থানই প্রমাণ করে যে মোদী সরকার আসলে কাদের স্বার্থ রক্ষা করে।
সাম্প্রতিক বিতর্কের জট:
এদিন জয়রাম রমেশ সাম্প্রতিক বেশ কিছু বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন:
রাম মন্দির অনুদান বিতর্ক: অযোধ্যা রাম মন্দিরের অনুদান সংগ্রহে ‘চান্দা চোরি’র অভিযোগ তুলে তিনি একে দেশের বিবেকের ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন।
অরুণাচল ও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ: অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সংস্থাকে সরকারি চুক্তির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের সিবিআই তদন্তের নির্দেশ এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগকেও তিনি হাতিয়ার করেছেন।
নিট (NEET) ও শিক্ষামন্ত্রী: দেশের যুব সমাজের ভবিষ্যতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন জয়রাম রমেশ। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র কাজকর্মে চরম দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন তিনি।
বিরোধী দল ভাঙানো: আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে বিরোধী নেতাদের দলে টেনে এনডিএ-কে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাকে তিনি ‘অনৈতিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
জ্বালানি নীতি: E20 জ্বালানি নীতি নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেছেন, এতে নির্দিষ্ট মন্ত্রীর পরিবার সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে।
সরকারের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি:
রমেশ আরও কটাক্ষ করে বলেন, “মিস্টার মোদীর নীতি আসলে ‘খাউঙ্গা, খানে দুঙ্গা, অউর খিলাউঙ্গা’ (আমিও খাব, অন্যদেরও খেতে দেব এবং অন্যদের লাভ করতে সাহায্যও করব)।”