আবারও উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া: ট্রাম্প ও মুজতবার দ্বন্দ্বে কি বড় ধরনের বিশ্ব অর্থনৈতিক যুদ্ধের সূচনা?

আবারও নতুন করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে, যা বিশ্বকে এক নতুন সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। গত দুই দিন ধরে চলা মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের ১০টি শহর ও ৫টি দ্বীপসহ ৯০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু আক্রান্ত হয়েছে।

হামলার তীব্রতা ও লক্ষ্যবস্তু: মার্কিন সামরিক বাহিনী ১৯টি যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে এই বিশাল আক্রমণ চালিয়েছে। হামলায় ইরানের শুধুমাত্র সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং বেসামরিক পরিকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রেলসেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে, তেহরান-মাশহাদ রেলপথে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংসের ফলে ৫০,০০০-এর বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন, যা খামেনেই-এর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ব্যাহত করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে দাবি করছে আইআরজিসি (IRGC)।

ট্রাম্প বনাম মুজতবা: স্নায়ুযুদ্ধ থেকে সরাসরি সংঘর্ষ: বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াই এখন কেবল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমান সংঘাত অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মুজতবা খামেনির মধ্যে একটি ব্যক্তিগত ও আদর্শিক রিমোট-কন্ট্রোল যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের কঠোর সামরিক অবস্থান, অন্যদিকে মুজতবার প্রতি ইরানের জনগণের সমর্থন—এই দুই শক্তির সংঘর্ষ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। খামেনেই-এর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ‘ট্রাম্পকে হত্যা করার’ স্লোগান ইরানের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছে বিশ্ব।

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগের মেঘ: যুদ্ধ যদি দ্রুত থামানো না যায়, তবে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও বিধ্বংসী যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দর আব্বাস ও চাবাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে মার্কিন হামলার ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের বাজার ও সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কূটনীতির দরজা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংঘাত কোনো দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে সারা বিশ্ব এখন চরম উদ্বিগ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *