কম্পিউটার পরীক্ষা ছাড়াই পদোন্নতি: রাজ্য সরকারি কর্মীদের স্বস্তি দিয়েও ‘কড়া’ বার্তা নবান্নের

রাজ্য সরকারি ক্লার্কদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। ২০১৯ সালের পর ভুলবশত কম্পিউটার পরীক্ষা ছাড়াই যে সমস্ত সরকারি কর্মী পদোন্নতি পেয়েছিলেন, তাঁদের পদ আপাতত বাতিল করা হচ্ছে না। তবে, এই সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি একটি কঠোর শর্তও জুড়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার।
নির্দেশিকার মূল বিষয়গুলো একনজরে:
-
পদোন্নতি বহাল: ২০১৯ সালের পর নিয়ম মেনে কম্পিউটার পরীক্ষা (NSATI) ছাড়াই যেসব এলডিসি (LDC)/এলডিএ (LDA) বা ইউডিসি (UDC)/ইউডিএ (UDA) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাঁদের পদ বাতিলের আশঙ্কা আপাতত কাটল। ৫০ বছরের বেশি বয়সি কর্মীরা তাঁদের বর্তমান পদে বহাল থাকবেন।
-
পরীক্ষা বাধ্যতামূলক: পদোন্নতি বহাল থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য NSATI-এর নির্ধারিত কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকার তাঁদের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত একটি সুযোগ দিচ্ছে।
-
ইনক্রিমেন্টে কড়া শর্ত: নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, যতদিন না সংশ্লিষ্ট কর্মী ওই কম্পিউটার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছেন, ততদিন তাঁর বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ, পদ হারাবেন না ঠিকই, কিন্তু পরীক্ষা পাস না করা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা থমকে যাবে।
-
বেতন অপরিবর্তিত: রাজ্য সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো কর্মীর বর্তমান পদ বা বেতন কমানো হবে না। তাঁদের আগের পদে নামিয়ে দেওয়ার চিন্তাও সরকার করছে না।
কেন এই জটিলতা? ২০১৯ সালে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস (রিক্রুটমেন্ট টু ক্লেরিক্যাল ক্যাডার) রুলস’ কার্যকর হওয়ার পর ৫০ বছরের বেশি বয়সি কর্মীদের কম্পিউটার পরীক্ষায় যে ছাড় দেওয়া হতো, তা বাতিল হয়ে যায়। অভিযোগ, সেই নিয়ম পরিবর্তনের পরেও অনেক কর্মীকে আগের মতো ছাড় দিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। এই অনিয়ম নিয়েই তৈরি হয়েছিল জটিলতা।
সেই গোলমেলে পরিস্থিতির সুরাহা করতেই এবার মধ্যপন্থা নিল রাজ্য সরকার। একদিকে কর্মীদের চাকুরির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলো, অন্যদিকে প্রশাসনিক দক্ষতার মানদণ্ড বজায় রাখতে বাধ্যতামূলক করা হলো দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষাকে। নবান্নের এই সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও, পদ হারানোর ভয় না থাকায় কর্মীরা কিছুটা স্বস্তিতে।