নিজের শরীরের ওপর সিদ্ধান্ত নেবেন নারীই! গর্ভপাত নিয়ে বড় বার্তা আদালতের

প্রজনন স্বাস্থ্য এবং নিজের শরীরের ওপর নারীর অধিকারের প্রশ্নে এক ঐতিহাসিক রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গর্ভপাতের ক্ষেত্রে একজন মহিলার নিজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এর জন্য কোনওভাবেই স্বামীর সম্মতি বা অনুমতির প্রয়োজন নেই।
রায় ও পর্যবেক্ষণের মূল দিকগুলি:
-
নারীর স্বকীয়তা: হাইকোর্টের এই নির্দেশিকা নারী স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এক বিশাল জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালত বুঝিয়ে দিয়েছে, গর্ভাবস্থা বা গর্ভপাত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া একজন মহিলার ব্যক্তিগত অধিকারের আওতাভুক্ত।
-
স্বামীর সম্মতির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই: গর্ভপাতের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে আইনি ও নৈতিকভাবে স্বামী বা অন্য কোনও আত্মীয়র অনুমতির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে আদালত।
-
প্রজনন অধিকারের স্বীকৃতি: চিকিৎসাবিদ্যা এবং আইন—উভয় দিক থেকেই গর্ভপাতের অধিকারকে নারীর মৌলিক অধিকারের অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। আদালতের এই অবস্থান প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা অনেকটা কমিয়ে দেবে বলে মত আইন বিশেষজ্ঞদের।
কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ? দীর্ঘদিন ধরেই গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে সমাজে বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল। বিশেষ করে বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় স্বামী বা পরিবারের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে নারীর প্রজনন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করা হয়। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তীকালীন বা চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ সেই সব ভুল ধারণার অবসান ঘটাবে। এতে নারীরা প্রজনন সংক্রান্ত বিষয়ে আরও নির্ভীক এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
আদালতের এই রায় ভারতীয় সংবিধানের মর্যাদাপূর্ণ জীবন এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারকে আরও শক্তিশালী করল বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞরা।