‘গর্বিত ভারতীয় ও গর্বিত ভিক্টোরিয়ান’: প্রবাসী ভারতীয়দের নিয়ে মেলবোর্নে মোদীকে ঘিরে আবেগী বার্তা!

অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে আবারও প্রবাসী ভারতীয়দের হৃদয়ে জায়গা করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে এক বিশাল কমিউনিটি ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জেসিন্টা অ্যালান। এই মঞ্চ থেকেই তিনি ভারতকে ‘ভরসার দেশ’ হিসেবে অভিহিত করে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন।

জেসিন্টা অ্যালানের বক্তৃতার মূল দিকগুলি:

  • ভারত এক আস্থার নাম: প্রিমিয়ার অ্যালান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ভারত শুধু এমন একটি দেশ নয় যার সঙ্গে আমরা ব্যবসা করি, ভারত এমন এক দেশ যাকে আমরা বিশ্বাস করি।”

  • পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ: তিনি জানান, ভিক্টোরিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায় কেবল এখানকার বাসিন্দা নন, তাঁরা অস্ট্রেলিয়ার পরিচয়েরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনাদের এখানে কোনো একটি পরিচয় বেছে নিতে হবে না। আপনারা একই সঙ্গে গর্বিত ভারতীয় এবং গর্বিত ভিক্টোরিয়ান হতে পারেন।”

  • অপার সুযোগ: প্রিমিয়ার আরও বলেন, ভিক্টোরিয়া ভারতের ছাত্র, ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলিকে দুহাত বাড়িয়ে স্বাগত জানায়। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার এই ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক যে কত গভীর, তা এই অনুষ্ঠান থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ঐতিহাসিক জনসমাগম ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি: মেলবোর্নের এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ হাজার প্রবাসী ভারতবাসী উপস্থিত ছিলেন, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বিদেশী রাষ্ট্রনেতার জন্য অন্যতম বৃহত্তম জমায়েত। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা, শক্তি, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে মোট ১৮টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুই রাষ্ট্রনেতা ভারত-অস্ট্রেলিয়া ‘সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (Comprehensive Strategic Partnership)-কে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে সমুদ্র নিরাপত্তা ও শিক্ষা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য স্থির করেছে দুই দেশ।

সামগ্রিকভাবে, মেলবোর্নের এই অনুষ্ঠান ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অটুট সম্পর্কের এক শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *