‘প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতেই হবে!’ অযোধ্যা বিতর্ক নিয়ে সরাসরি মোদীকে নিশানা কংগ্রেসের

অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান ও পূজার সামগ্রী চুরির অভিযোগ নিয়ে সরব বিরোধী দল কংগ্রেস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলনের পথে হাঁটছে দলটি। আগামীকাল, ১০ জুলাই দেশজুড়ে একযোগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি দাবি করবে কংগ্রেস।

কংগ্রেসের তোপ: বুধবার দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি কেবল চুরির ঘটনা নয়, বরং এটি স্বচ্ছতার প্রশ্ন। দলের জাতীয় মুখপাত্র সুরেন্দ্র রাজপুত এই বিতর্কে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, “রাম মন্দির ট্রাস্টটি প্রধানমন্ত্রীর নিজের তৈরি। ট্রাস্টে নির্দিষ্ট আদর্শের লোকেদের বসানো হয়েছে, যারা আত্মীয়স্বজনদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মতো কাজে ব্যস্ত।” কংগ্রেসের অভিযোগ, চুরির আসল হোতাদের আড়াল করে ছোটখাটো কয়েকজনকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে। সুরেন্দ্র রাজপুত আরও দাবি করেছেন যে, পিএমও (PMO) এবং আরএসএস প্রধানের ভূমিকাও এই ঘটনায় খতিয়ে দেখা উচিত।

আগামী দিনের রণকৌশল: শুধুমাত্র সংবাদ সম্মেলনেই থেমে থাকছে না কংগ্রেস। সূত্রের খবর, এই ইস্যুটিকে গ্রাম থেকে শহর—তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দলটি। আগামী দিনগুলোতে জনস্বার্থ ও স্বচ্ছতার দাবিতে দেশব্যাপী বড় আকারের জনসংযোগ অভিযান শুরু করতে পারে তারা। দলীয় নেতারা বিভিন্ন রাজ্যের প্রধান শহরগুলোতে উপস্থিত থেকে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন।

রাজনৈতিক অস্বস্তি: রাম মন্দির ট্রাস্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এই অভিযোগ হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির আঙিনায় বড়সড় বিতর্ক তৈরি করেছে। যদিও ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অতীতে স্বচ্ছতার দাবি করা হয়েছে, তবে বিরোধী দলের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান মন্দির প্রশাসনের অস্বস্তি আরও বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার বিষয়, ১০ জুলাইয়ের পর এই ইস্যুতে মন্দির প্রশাসন বা শাসকদলের পক্ষ থেকে পাল্টা কী প্রতিক্রিয়া আসে।

আপনার জন্য প্রশ্ন: রাম মন্দিরের মতো সংবেদনশীল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর এই লড়াইকে আপনি কীভাবে দেখছেন? এটি কি জনস্বার্থের লড়াই, নাকি রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *