‘অপরাধীদের কোনো জাত-ধর্ম নেই!’ বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে নবান্নকে জোরালো সমর্থন বিজেপির

রাজ্য রাজনীতিতে এখন উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দু বারুইপুরের এনকাউন্টার। এই পরিস্থিতিতে পুলিশি পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন, “এ রাজ্যে অপরাধীদের কোনো স্থান নেই।” পাশাপাশি, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে কামদুনিকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

কামদুনিকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ চুঁচুড়ায় দলীয় সাংগঠনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, কামদুনির ঘটনার সময় তৎকালীন তৃণমূল সরকার একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর ভোট নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর অভিযোগ, অপরাধীদের মুক্তি দিতে পরিকল্পিতভাবে ‘সাজানো তদন্ত’ করে চার্জশিট তৈরি করা হয়েছিল।

বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে কী বললেন শমীক? এনকাউন্টার প্রসঙ্গে পুলিশি পদক্ষেপের পাশে দাঁড়িয়ে শমীক বলেন, “পুলিশ পরিস্থিতি বিচার করেই ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে বার্তা পরিষ্কার— অপরাধীর কোনো ধর্ম বা জাত হয় না। আগের সরকার এই সহজ সত্যটি ভুলে গিয়েছিল।” রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলেই তৃণমূলের অনেক নেতা আজও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের একই সুর শোনা গেছে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের গলায়। তারকেশ্বরে এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বারুইপুরের ঘটনার নিন্দা যারা করছেন, তাদের তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। মমতার মোমবাতি মিছিল নিয়ে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার, তাঁদেরই বাতি নিয়ে ঘুরতে হয়। যখন সুযোগ ছিল, তাঁরা অনেকের জীবনের বাতি নিভিয়ে দিয়েছেন। এখন তাঁদের পার্টি অফিস নেই, অ্যাকাউন্ট সিজ, তাই মোমবাতি মিছিলের নাটক করছেন।”

রাজনীতির ময়দানে সরগরম পরিস্থিতি রাজ্যের দুই শীর্ষ বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। কামদুনিকাণ্ড নিয়ে পুরনো ফাইল নতুন করে খুঁচিয়ে বিজেপি বিরোধীদের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিচ্ছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে বারুইপুর ঘটনার পর রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের এই তরজা আরও কয়েকদিন যে চলবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *