বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নৃশংস ধর্ষণ, লজ্জায় আত্মঘাতী নাবালিকা; তোলপাড় মহারাষ্ট্র!

ভালোবাসার মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা আর সমাজের ভয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের প্রাণটাই শেষ করে দিল ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। মহারাষ্ট্রের এই মর্মান্তিক ঘটনা বর্তমানে গোটা দেশে আলোড়ন তৈরি করেছে। পুলিশের হাতে থাকা সুইসাইড নোট বলছে, সে নিজে কষ্ট পাওয়ার চেয়েও বেশি ভয় পাচ্ছিল— তার জন্য বাবা যাতে কোনোদিন সামাজিকভাবে অপমানিত না হন।

কী হয়েছিল ওই কিশোরীর সঙ্গে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মাস ধরে ওই যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিশোরীর। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে ওই যুবক। কিন্তু সম্প্রতি নিজের আসল রূপ প্রকাশ করে প্রেমিক। কিশোরীর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করা হয়। শিউরে ওঠার মতো তথ্য হলো, এই জঘন্য কাজে ওই যুবককে সাহায্য করেছিল তারই এক বন্ধু এবং খোদ ওই কিশোরীর দুই বান্ধবী!

সুইসাইড নোটে যা লিখে গেছে সে: ধর্ষণের মতো পাশবিক অত্যাচার কিশোরীকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল। মৃত্যুর আগে লেখা সুইসাইড নোটে সে স্পষ্টভাবে লিখে গেছে, “আমার জন্য আমার বাবার ওপর কোনো ধরনের চাপ তৈরি হোক বা তিনি অপমানিত হোন, তা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারব না।” সমাজের কটূক্তি আর বাবার সম্মানের কথা ভেবেই বিষ পান করে আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নেয় সে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

তদন্তে পুলিশ: এই ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ‘পকসো’ (POCSO) বা শিশু যৌন নির্যাতন বিরোধী কড়া আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত প্রেমিক, তার বন্ধু এবং কিশোরীর ওই দুই বান্ধবীর খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি।

একজন নাবালিকার এমন অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া পরিবারজুড়ে। এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর সাজা দেওয়া হবে, এমনটাই আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে বা মানসিক অবসাদ অনুভব করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, আত্মহনন সমস্যার সমাধান নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *