হরমুজ রণক্ষেত্র! ইরানের ওপর ভয়াবহ মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের হুঙ্কারে কাঁপছে উপসাগরীয় অঞ্চল

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন রণতরীর ওপর হামলার জেরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক ফের এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত ঘাঁটিতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এই হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত:
গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের তিনটি জাহাজের ওপর হামলার ঘটনার পরই ওয়াশিংটন এই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভির দাবি অনুযায়ী, চাবাহার, কোনারাক, আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং সিরিক অঞ্চলে অন্তত ৩০টিরও বেশি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে শহীদ বেহেশতি বন্দর ও সামুদ্রিক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ট্রাম্পের হুঙ্কার:
হামলার পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগুনের শিখার একটি ছবি পোস্ট করে ইরানকে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “এটি আমাদের ওপর ইরানের হামলার উপযুক্ত জবাব। যদি এমনটা ফের ঘটে, তবে তার মাশুল আরও কঠোরভাবে দিতে হবে। প্রতিটি হামলার জবাব ২০ গুণ বেশি শক্তিতে দেওয়া হবে।”

পালটা জবাব তেহরানের:
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পিছু হটতে নারাজ। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ তীব্র ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ধমক ও জবরদস্তির যুগ শেষ। আমেরিকা এখনো এর মূল্য সম্পর্কে জানে না। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে, মার্কিন হুমকিতে আমরা মাথা নত করব না।” ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘অপরাধী ও খুনি’ বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তেহরান যেকোনো পর্যায়ের লড়াইয়ে প্রস্তুত।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে হাই-অ্যালার্ট:
এই সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে। সম্ভাব্য ইরানি প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় কুয়েতে ক্রমাগত সাইরেন বাজছে এবং আকাশসীমা রক্ষায় বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। কাতারেও নাগরিকদের সুরক্ষায় ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সরাসরি সামরিক প্রত্যাঘাত শুরু করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের জন্ম দিতে পারে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *