গর্ভবতী আইপিএস অফিসারের প্রশিক্ষণে বাধা! কেন্দ্রকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

একজন মহিলা কর্মকর্তা চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে গর্ভকালীন অবস্থায় প্রশিক্ষণে বাধা দেওয়া হবে? এই প্রশ্ন তুলেই এবার আইপিএস অফিসার উর্বশী সেঙ্গারের মামলায় কেন্দ্রকে তলব করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নারীদের কল্যাণের জন্য তৈরি কোনো নিয়মের দোহাই দিয়ে তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়।

মামলার প্রেক্ষাপট:
মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের ২০২৩ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা উর্বশী সেঙ্গার বর্তমানে এই আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে। অভিযোগ, ২০২৫ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় পর্বের প্রশিক্ষণ চলাকালীন তিনি গর্ভবতী হওয়ার কথা জানালে, তাঁকে প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখতে বলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁকে সন্তান জন্মের এক বছর পর পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে প্রশিক্ষণ শুরু করতে বলা হয়েছিল। উর্বশী এই সিদ্ধান্ত ও ১৯৯৩ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই পুরনো নিয়মের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ:
আদালত এই মামলায় অত্যন্ত মানবিক ও যৌক্তিক প্রশ্ন তুলেছে। বিচারপতিদের মতে:

সব নারীর শারীরিক সক্ষমতা বা পরিস্থিতির ওপর একই ধরনের কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া কি যুক্তিসঙ্গত?

মাতৃত্বের দুই বছর পরও অনেকে শারীরিক জটিলতার কারণে পুরোপুরি ফিট থাকেন না। সেক্ষেত্রে এই নিয়ম কতটা কার্যকর?

নারীর কল্যাণের জন্য যে ব্যবস্থা, তা কেন তাদের ক্যারিয়ারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে?

কেন্দ্রের যুক্তি বনাম উর্বশীর দাবি:
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সওয়াল করা হয়েছে যে, উর্বশীকে ছাড় দিলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে একই ধরনের দাবি নিয়ে এগিয়ে আসবেন, যা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, উর্বশীর আইনি প্রতিনিধি আদালতকে জানিয়েছেন, অতীতেও বিশেষ ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ছাড় দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে।

বর্তমানে আদালত জানতে চেয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাসে শুরু হতে যাওয়া প্রশিক্ষণে উর্বশী সেঙ্গারকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া সম্ভব কি না। আজকের শুনানিতে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের প্রশাসনিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *