অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ হবে কি? মেসিকে আবারও শহরে আনতে মরিয়া শতদ্রু, জানালেন বড় পরিকল্পনা।

ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি কি আবারও ফিরছেন তিলোত্তমায়? মিশরের বিরুদ্ধে অনবদ্য পারফরম্যান্সের পর মঙ্গলবার রাতে শতদ্রু দত্তের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শতদ্রু লিখেছেন, “আসছে বছর আবার হবে… কথা দিলাম।” আর এই পোস্টই এখন চর্চার কেন্দ্রে।
অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও নতুন আশা: ২০২৪ সালে মেসিকে কলকাতায় আনার সময় যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও ফুটবলপ্রেমীদের আক্ষেপের কারণ। তৎকালীন ইভেন্ট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল মেসির টিম। সেই প্রসঙ্গে শতদ্রু দত্ত বলেন, “খুব কষ্ট করে মেসিকে এনেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত কিছু মানুষ এবং পুলিশের গাফিলতির কারণে যা ঘটার ছিল, তা হয়নি। সেদিন মেসিকে আমি যেভাবে দেখাতে চেয়েছিলাম, পারিনি। সেটা আমার কাছে আজও অপূর্ণ স্বপ্ন।”
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করছেন তিনি। শতদ্রু জানান, নতুন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজ্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ওপর ভরসা রাখছেন তিনি। তাঁর কথায়, “অন্যান্য রাজ্যে যেখানে এই ইভেন্ট হয়েছিল, সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরকারের সহযোগিতা আমরা দেখেছি। আশা করি, এবার আমাদের রাজ্যে সবটা অনেক বেশি পরিকল্পিত হবে।”
কী পরিকল্পনা শতদ্রুর? মেসিকে এবার অন্য কোনো ফরম্যাটে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছেন শতদ্রু। মায়ামিতে মেসির টিমের সঙ্গে কথা বলার জন্য খুব শীঘ্রই পাড়ি দিচ্ছেন তিনি। উদ্যোক্তার কথায়, “আমি কোনো চুরি-ডাকাতি করে তো ওঁকে আনতে পারব না। মেসির অবসর ও অন্যান্য বিষয় মাথায় রেখেই নতুনভাবে কথা বলতে হবে। আমি মেসিকে অন্য কোনো ফরম্যাটে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।”
নেইমার ও রোনাল্ডো নিয়েও বড় পরিকল্পনা: শুধু মেসি নন, নেইমার এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেও ভারতের মাটিতে আনার স্বপ্ন দেখছেন শতদ্রু দত্ত। বিশেষ করে নেইমারের প্রতি তাঁর দুর্বলতা গোপন করেননি উদ্যোক্তা। তিনি জানান, “নেইমারের সঙ্গে কথা চলছে। শুধু কলকাতা নয়, অন্তত ভারতের কোনো একটি শহরে তাকে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া রোনাল্ডোকেও আনার প্রবল ইচ্ছা আছে।”
মেসির টিমের সঙ্গে আগামী মিটিংয়ের পর এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শতদ্রুর এই নতুন উদ্যোগে আদৌ মেসিকে আবারও ইডেন গার্ডেন্স বা যুবভারতীর সবুজ ঘাসে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।