সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাস বাদ, পাঠ্যবইতে জায়গা পাচ্ছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়! বড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মাথায় শিক্ষাক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্কুল থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত পাঠ্যসূচিতে আমূল বদল আনার ঘোষণা করেছেন তিনি। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, পাঠ্যবইতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও তাঁর অসামান্য অবদানের কথা। একই সঙ্গে, স্কুল পাঠ্য থেকে সিঙ্গুর আন্দোলন সংক্রান্ত অধ্যায়টি বাদ দেওয়ার বিষয়েও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার সূত্রপাত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা ও যুক্তি: সম্প্রতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালনকালে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টিতে শ্যামাপ্রসাদের রাষ্ট্রপ্রেম ও অখণ্ড ভারতের ভাবনা নতুন প্রজন্মের জানা জরুরি। তিনি বলেন, “বাংলার সঙ্গে দেশের সংযোগ স্থাপনে তাঁর অবদান স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত চর্চা হওয়া উচিত।” এই বিষয়ে স্কুল ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে সিলেবাস কমিটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
সিঙ্গুর অধ্যায় কি তবে ইতিহাস? পশ্চিমবঙ্গে বাম শাসনের অবসানে সিঙ্গুর আন্দোলন এক বড় রাজনৈতিক বাঁক হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১৭ সালে তৎকালীন সরকার কৃষকদের এই ‘ঐতিহাসিক জয়’-কে অষ্টম শ্রেণির ‘অতীত ও ঐতিহ্য’ পাঠ্যবইতে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ন্যানো কারখানা স্থাপন, জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জমি ফেরতের সেই ঘটনাক্রম এতদিন সিলেবাসের অংশ ছিল। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাঠ্যসূচি থেকে এই অংশটি বাদ দেওয়ার জন্য তিনি শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট সিলেবাস কমিটি।
ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান: ইতিহাসবিদদের মতে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একাধারে তুখড় রাজনীতিবিদ ও প্রজ্ঞাবান শিক্ষাবিদ। ১৯৩৪ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীন ভারতের প্রথম মন্ত্রিসভায় শিল্পমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি, ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও তিনি পরিচিত। বিশেষত, বাংলার ভারতভুক্তির আন্দোলনে এবং কাশ্মীরের পারমিট প্রথার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই ইতিহাসের এক বর্ণময় অধ্যায়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাজ্য সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে নিজেদের আদর্শগত অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করতে চাইছে। এখন দেখার বিষয়, সিলেবাস কমিটি আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যসূচিতে কতটা পরিবর্তন আনতে চলেছে।