কামদুনি কাণ্ডের ফাইল ফের খোলার আর্জি শমীকের! বারুইপুর এনকাউন্টারে তোলপাড় রাজ্য

বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মধ্যরাতে নাটকীয় মোড়। পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে মৃত্যু হলো এই নৃশংস ঘটনার অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন প্রশাসনের কড়া অবস্থানের প্রশংসা শোনা যাচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্য রাজনীতিতে কামদুনি কাণ্ডের ছায়া নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

কী ঘটেছিল সেই রাতে?
মঙ্গলবার রাত ১২টা ১০ মিনিট। বৃষ্টির রাত, চারপাশ ঘুটঘুটে অন্ধকার। ঘটনার পুনর্নির্মাণের (Reconstruction) জন্য তদন্তকারীরা যখন প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধারের স্থানে পৌঁছন, ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। পুলিশের দাবি, সুযোগ বুঝে এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেয় সে। এরপর পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে অন্ধকার চিরে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। পুলিশ প্রথমে তাকে ধাওয়া করলেও উপায়ান্তর না দেখে পাল্টা গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

শমীক ভট্টাচার্যের নিশানায় ‘কামদুনি’
এই ঘটনায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সরকারের কড়া পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও, টেনে এনেছেন কামদুনি কাণ্ডের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে, এটা ভালো। কোনো অপরাধীকে আর ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তবে আমি মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন করছি, কামদুনি কাণ্ডে যেভাবে রাজ্য প্রশাসন তদন্তে ঢিলেমি দেখিয়েছিল এবং তোষণের রাজনীতির কারণে অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পেয়ে গিয়েছিল, সেই ফাইল এবার পুনরায় ওপেন করা হোক।”

‘ঐশ্বরিক বিচার’—মন্তব্য দেবজিৎ সরকারের
ঘটনাটি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকারও। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “বারুইপুরে ১২ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যাকারী পিশাচ প্রভাস মণ্ডল পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। এ এক ঐশ্বরিক বিচার!”

উল্লেখ্য, এই নৃশংস ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্তের মৃত্যুতে তদন্তের মোড় কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। রাজ্যজুড়ে এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভের পারদ তুঙ্গে থাকলেও, অপরাধ দমনে পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *