“পুলিশের দিকে গুলি ছুড়লে মোয়া ছুড়বে না!” এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যুতে বিস্ফোরক সুকান্ত মজুমদার

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বারুইপুরে এনকাউন্টার! এক অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। পুলিশের ওপর হামলা এবং পালানোর চেষ্টার জেরেই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ বলে দাবি প্রশাসনের। পুলিশের এই আগ্রাসী ভূমিকাকে সমর্থন জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বললেন, “পুলিশের দিকে গুলি ছুড়লে, পুলিশ তো আর জয়নগরের মোয়া ছুড়বে না, গুলিই ছুড়বে।”

কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে ধর্ষণের ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরে গিয়েছিল পুলিশ। রাত প্রায় পৌনে একটা নাগাদ আচমকাই পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্ত। এরপর পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া:
এই ঘটনায় পুলিশের কঠোর ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা।

সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্য: এনকাউন্টার প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরাধীকে সুযোগ দেওয়া হয়নি।” তাঁর এই ‘মোয়া’ মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

শমীক ভট্টাচার্যের সুর: রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চলা দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ করেছে। দলমত নির্বিশেষে অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে। কোনো রাজনৈতিক নেতার আশীর্বাদে এখন আর কেউ বাঁচতে পারবে না, এই ঘটনা সেটাই প্রমাণ করল।”

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ও পুলিশের ‘ফ্রি-হ্যান্ড’
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, রাজ্যে অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। তিনি পুলিশকে ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ দিয়ে বলেছিলেন, “পুলিশের গায়ে হাত তুললে রেয়াত করা হবে না। মনে রাখবেন, আমার মতো খারাপ পুলিশমন্ত্রী আর কেউ হবে না।” কার্যত তাঁর সেই কড়া অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেল বারুইপুরের এই ঘটনায়।

অপরাধী দমন ও আইন-শৃঙ্খলার রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন এখন থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *