অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলা! কড়া পদক্ষেপের আগে আদালতের অনুমতি লাগবে, নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দ্বিতীয় মামলায় বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ১৮ জুন আলিপুর আদালত চত্বরে আইনজীবীদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এই মামলায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হলে পুলিশকে আগে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অত্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, “জনসমক্ষে অভিযুক্তদের ঘোরানো ও ডিম ছোড়ার মতো ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত। এমন অসভ্যতা বরদাস্ত করা হবে না।” আদালতের নির্দেশে ১৮ জুন আলিপুর আদালত চত্বর, আইনজীবীর চেম্বার এবং সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী অভিযোগ প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে?
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত একটি ফুটবল প্রদর্শনী ম্যাচকে কেন্দ্র করে। অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাস মেসির খুব কাছাকাছি থাকায় নিরাপত্তার চরম বিঘ্ন ঘটেছিল। তাঁর দাবি, ধাক্কাধাক্কিতে লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি’পলের মতো তারকারা আহত হন। অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলার জেরে গ্যালারিতে টিকিটধারী দর্শকরা মাঠে নেমে পড়লে গোটা অনুষ্ঠান ভণ্ডুল হয়ে যায়। এই ঘটনার জেরে তখন বড়সড় বিতর্কের মুখে পড়ে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছিল অরূপ বিশ্বাসকে।
নতুন মামলা ও আইনি লড়াই
নতুন সরকার গঠনের পর আয়োজক শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে নতুন করে এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশের দাবি, অরূপ বিশ্বাসের মদতেই আইনজীবীদের খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও অরূপ বিশ্বাস এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এর আগেও মেসি-কাণ্ডে অভিযুক্ত অরূপ বিশ্বাসকে দুবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিতে হয়েছিল। তিনবার হাজিরা এড়ানোর পর মঙ্গলবার সকালে তিনি ফের আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের তলবে হাজিরা দেন।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলার পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় রয়েছেন। অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন আদালতের নজরদারির ওপর নির্ভর করবে, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।