‘মুখ্যমন্ত্রী আমার দাদা…’ এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যুতে যা বললেন নির্যাতিতার বাবা

বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পরের দিনই এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই এক বিশাল আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

‘মুখ্যমন্ত্রীর ওপর সম্পূর্ণ আস্থা’: নির্যাতিতার পরিবার ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হতে দেখে নির্যাতিতার বাবা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সরকারের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে কথা দিয়েছিলেন, সেভাবে কাজ হচ্ছে। পুলিশ আমাদের যেভাবে সাহায্য করেছে, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। আশা করি বাকি অভিযুক্তরাও দ্রুত গ্রেফতার হবে এবং কঠোর শাস্তি পাবে।” পরিবারের কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর এই তৎপরতায় তাঁরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন।

এনকাউন্টার বনাম ‘জঙ্গলরাজ’ বিতর্ক এই এনকাউন্টারকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে যেমন বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ এই পদক্ষেপকে ‘আইনের শাসন’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন এবং প্রভাসের মায়ের কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করেছেন, অন্যদিকে বিরোধী শিবির ও তৃণমূলের একাংশও সরব হয়েছে।

  • মহুয়া মৈত্রের তোপ: কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। তিনি এই এনকাউন্টারকে ‘জঙ্গলরাজ’ এবং ‘উত্তরপ্রদেশ ২.০’-এর সাথে তুলনা করে প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।

  • রাজনৈতিক চর্চা: পুলিশের এনকাউন্টার পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে দ্বিমত দেখা দিয়েছে। কেউ একে অপরাধ দমনের অব্যর্থ ওষুধ বলছেন, আবার কেউ বিচার বহির্ভূত হত্যার শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

প্রভাসের মায়ের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া এই সমস্ত বিতর্কের মাঝেও সবথেকে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিহত প্রভাসের মায়ের অবস্থান। নিজের ছেলের মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করে তিনি সাফ জানিয়েছেন, “ও যা কর্ম করেছে, তাতেই ওর মৃত্যু হয়েছে। আমার শান্তি।” অপরাধী সন্তানের প্রতি এক মায়ের এই নিস্পৃহ প্রতিক্রিয়া সমাজকে এক গভীর বার্তা দিয়েছে।

আইনি পর্যায় ও ভবিষ্যৎ: প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হলেও, পুলিশি তদন্ত এখনও থামেনি। ঘটনার পুনর্নির্মাণ এবং ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে বাকি অভিযুক্তদের খুঁজে বের করাই এখন চ্যালেঞ্জ। আইন অনুযায়ী তদন্ত প্রক্রিয়া এগোলেও, বারুইপুরের এই ঘটনা ভবিষ্যতে বাংলার অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে এক বড় নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *