ইন্দোনেশিয়ায় মোদীর জয়জয়কার! সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী, দুই দেশের সম্পর্কে ‘নতুন যুগ’

তিন দেশ সফরের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ায় পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার ৬ জুলাই জাকার্তায় পৌঁছানো মাত্রই তাঁকে ঘিরে দেখা গেল অভূতপূর্ব উৎসাহ। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো নিজে বিমানবন্দরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিশাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হলো বিশেষ সংবর্ধনা।
সর্বোচ্চ সম্মান ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হওয়ার পর আবেগপ্রবণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সম্মানকে তিনি ভারতের কোটি কোটি মানুষের প্রতি উৎসর্গ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় বলেন, “ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সুদীর্ঘ সম্পর্কের ইতিহাস রয়েছে। বিগত কয়েক বছরে দুই দেশের এই মৈত্রী নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আজকের এই সম্মান আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের।”
প্রাম্বানান মন্দিরের মায়াবী রূপ
সফরের টুকরো মুহূর্তগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে প্রাম্বানান মন্দিরের অসাধারণ সৌন্দর্যের ভিডিও এবং তাঁকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনার দৃশ্য নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। দুই দেশের সংস্কৃতি যে কতখানি নিবিড়ভাবে যুক্ত, তা ফুটে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি পোস্টে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর?
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই ইন্দোনেশিয়া সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক বড় চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারত-ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে:
প্রতিরক্ষা কৌশল: দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধি।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ: খনিজ সম্পদ উত্তোলনে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা।
সামুদ্রিক পরিকাঠামো: সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি: প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আদান-প্রদান এবং প্রযুক্তিগত বিনিময়।
ভারতের প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এই সফর একটি মাইলফলক হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাকার্তা থেকে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে পা বাড়ানোর আগে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।