ডলারের ঝামেলা শেষ! পর্যটন থেকে বাণিজ্য, দুই দেশের নতুন সিদ্ধান্তে লাভবান হবেন কারা?

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য কমিয়ে নিজস্ব মুদ্রাকে গুরুত্ব দেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করল নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর উপস্থিতিতে স্থির হয়েছে, এখন থেকে দুই দেশ আন্তঃসীমান্ত কিউআর (QR) পেমেন্ট এবং স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন (LCT) ব্যবস্থা চালু করবে।
কী এই নতুন ব্যবস্থা? রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এবং ব্যাঙ্ক অফ ইন্দোনেশিয়ার যৌথ উদ্যোগে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত কার্যকর করা হচ্ছে। এর ফলে:
-
UPI-এর সুবিধা: ভারতীয় পর্যটকরা আর ডলার বা আন্তর্জাতিক কার্ড নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন না। ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে সরাসরি UPI-এর মতো কিউআর কোড স্ক্যান করে ভারতীয় মুদ্রায় পেমেন্ট করতে পারবেন।
-
স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য (LCT): আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে মার্কিন ডলার ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকছে না। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সরাসরি রুপি ও ইন্দোনেশীয় রুপিতেই লেনদেন সম্পন্ন করবে।
কেন এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের মাধ্যমে লেনদেন করতে গেলে মুদ্রার রূপান্তর ফি (Exchange rate fee) এবং ঝুঁকি—দুটিই প্রবল থাকে। নতুন ব্যবস্থায় এই অপ্রয়োজনীয় খরচ কমবে এবং লেনদেন হবে আরও দ্রুত ও নিরাপদ।
কাদের লাভ? ১. পর্যটক: অতিরিক্ত মুদ্রা বিনিময়ের ঝামেলা ও খরচ থেকে মুক্তি পাবেন ভারতীয় পর্যটকরা। ২. শিক্ষার্থী: দুই দেশের মধ্যে পড়াশোনার খরচ ও দৈনিক লেনদেন সহজতর হবে। ৩. ব্যবসায়ী ও এমএসএমই: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর ওপর ডলারের ওঠানামার প্রভাব পড়বে না, ব্যবসার খরচ কমবে। ৪. বিনিয়োগকারী: মুদ্রার অস্থিরতা কমে যাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হবে।
ভারতের কৌশলগত জয়: ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) এবং স্থানীয় মুদ্রায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারের যে নীতি, এটি তারই একটি বড় সাফল্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এই আর্থিক একীকরণ এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত বাণিজ্য, পর্যটন এবং বিনিয়োগ—সবক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।